অনন্যা সরকার, পশ্চিম বর্ধমান: দুর্গাপুরের ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের (Dr. B. C. Roy Polytechnic) প্রাক্তন ছাত্রী শ্রেয়া দত্ত ভারতের প্রধান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনে (ISRO) প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ‘ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক’ (ISTRAC)-এ এক বছর মেয়াদের ডিপ্লোমা অ্যাপ্রেন্টিসশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শ্রেয়ার এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শ্রেয়া পেলেন ইসরো থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ
ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী শ্রেয়ার এই সাফল্য তাঁর পেশাগত যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠান। তাদের বিশ্বাস, দেশের মহাকাশ গবেষণার অবিচ্ছেদ্য অংশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শ্রেয়ার কর্মজীবনের জন্য অনেক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিকের তরফে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে।
জানিয়ে রাখি, ভারত সরকারের মহাকাশ বিভাগের অধীনে পরিচালিত ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক (ISTRAC), ইসরোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বেঙ্গালুরুর পিনিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় অবস্থিত এই কেন্দ্রটি ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির গ্রাউন্ড সেগমেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, যার মধ্যে পৃথিবীর পর্যবেক্ষণ এবং মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: কোচিং ছাড়াই NEET ক্র্যাক, ডাক্তার হওয়ার পথে কালচিনির আদিবাসী কন্যা জেমিনা
উল্লেখ্য, ‘অ্যাপ্রেন্টিসেস অ্যাক্ট, ১৯৬১’ (Apprentices Act, 1961) অনুযায়ী, আইএসটিআরএসি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রেয়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে কাজ করার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, যা তাঁকে পেশাগতভাবে আরও দক্ষ করবে।
আরও পড়ুন: অক্টোবর মাসের শেষ, নেই যুবশক্তির কোনও আপডেট, কবে শুরু হবে আবেদন?
ড. বি. সি. রায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তরফে জানানো হয়েছে যে, শ্রেয়ার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী পেশাজীবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া কারিগরি শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীদের জন্য পেশাগত জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। সকলেই আশা করছেন যে, শ্রেয়ার এই সাফল্য জেলার আরও শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।