আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: মিলল না অনুমতি। আপাতত বন্ধই থাকছে কলকাতা বিমানবন্দরের (DumDum Airport) ভিতরে থাকা বাঁকড়া মসজিদের (Mosque) নামাজ। মসজিদে প্রবেশের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দীর্ঘ সওয়াল-জবাব হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রের তরফে মূলত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়টিকে সামনে রাখা হয়েছে। অন্য দিকে, মামলাকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে মসজিদে নিয়ম মেনে মানুষ নমাজ পড়েছেন, সেখানে হঠাৎ প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া যায় না। এটা সম্পূর্ণরূপে অনৈতিক।
কী বলছে হাইকোর্ট?
শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, নমাজের জন্য মসজিদই বাধ্যতামূলক নয়, মসজিদটি বিমানবন্দরের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে রয়েছে এবং রানওয়ের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষের দাবি, হঠাৎ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক বৈঠক এবং পর্যালোচনার পরেই মসজিদে প্রবেশের গেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জমির অধিকার নিয়েও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে আসে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার দাবি, মসজিদ যে জমিতে রয়েছে সেটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফেও যুক্তি দেওয়া হয়, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় মসজিদের অবস্থান সমস্যা তৈরি করছে। কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সবার আগে রাখা উচিত। ধর্মীয় স্থানে প্রবেশাধিকারের মতন বিষয় সেক্ষেত্রে অনেক তুচ্ছ।
অন্য দিকে, মামলাকারী পক্ষের বক্তব্য, গৌরীপুর জামে মসজিদ নামে পরিচিত এই মসজিদটি প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো। এতদিন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে সেখানে মুসলিমদের নমাজ পড়ার সুযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনে পরিচয় যাচাই বা নিয়ন্ত্রিত প্রবেশের ব্যবস্থা রেখেই মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। হঠাৎ সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ বন্ধ করার পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার আর্জি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেখ শাহজাহানের জামিন মামলায় হাইকোর্টে নতুন মোড়, শুনানি থেকে সরে গেলেন বিচারপতি
এই মামলায় আপাতত মসজিদে পুনরায় নামাজ পড়া চালু করার কোনও নির্দেশ দেয়নি আদালত। বুধবারের পর ফের ৯ অক্টোবর মামলাটির শুনানির হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে আদালতের তরফে। ফলে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বিমানবন্দর চত্বরে থাকা বাঁকড়া মসজিদে নমাজ স্থগিত থাকছে।