নেই মাটির যোগান! কুমোরটুলিতে মূর্তি তৈরি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আর হাতে গোনা ১৫০ দিনও বাকি নেই পুজোর। কুমারটুলিতে (Kumortuli) জোরকদমে শুরু হয়েছে মূর্তি বানানোর কাজ। কিন্তু তার আগেই মৃতশিল্পীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি, মাটির সংকটে আটকে যাচ্ছে মূর্তি তৈরির কাজ। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের তরফে আলোচনা চলছে। কিন্তু এরকম ভাবে চলতে থাকলে মূর্তি বানানো সম্ভবপর হবে না। এমনকি খড় এবং পাটের দড়ির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের উপর ফেলছে বাড়তি চাপ।

কুমারটুলিতে মাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা

কুমোরটুলির শিল্পীদের দাবি, ভোটের কারণে বহু পুজো কমিটি এখনও পর্যন্ত প্রতিমার বায়না দিতে পারেনি। যার কারণে একদিকে যেমন কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে, অন্যদিকে যারা অর্ডার দিয়েছে তাদের প্রতিমার কাজ আটকে যাচ্ছে মাটির কারণে। মাটি আসছে না প্রায় ৪০ দিন হয়ে গেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মূলত মাটির যোগান হতো। এখন আপাতত কাঠমোতে খড় বেঁধে রেখে দিতে হচ্ছে। এই সময়টাই প্রতিমা তৈরির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন যদি শরীরের গঠন তৈরি করা না যায়, তাহলে পরে মূর্তি বানানোর জন্য হাতে সময় থাকবে না।

সূত্রের খবর, তীব্র মাটির সংকটের মাঝেই বেশ কয়েকদিন আগে উলুবেরিয়া থেকে এক নৌকা মাটি এসেছিল কুমোরটুলিতে। তবে নিমেষের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যায়। মাত্র ১৩ জন ওই মাটি পেয়েছিলেন। সমিতির দাবি, এখানে ৪০০র বেশি শিল্পী রয়েছে। সেখানে এক নৌকো মাটি নিমিত্তমাত্র। মাটির সংকট এরকম আকার ধারণ করলে তা আগামী দিন বড়সড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি এ নিয়ে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশন। সেখানকার সভাপতি মোহনলাল প্রজাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তবে শুধু মাটির সংকট নয়, বরং দিনের পর দিন কাঁচামালের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকছে। শিল্পীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বছর কয়েক আগে ৭ কেজি ওজনের একটি বান্ডিল খড়ের দাম পড়ত মোটামুটি ৩৫ টাকা। এখন তা দ্বিগুণ বেড়ে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এমনকি ১ কেজি পাটের দড়ির দাম কয়েক বছর আগে যেখানে ৮০ টাকা ছিল, সেই পরিমাণ দড়ি কিনতে এখন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মমতার দেওয়া হার ও কুর্তা-পাজামা ফেরতের সিদ্ধান্ত কাকলী ঘোষের ছেলের

মাটির সংকট নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিল্পী জানান, আগের বছরগুলিতে উলুবেরিয়া সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পুকুর কাটা বা জমি কাটার মাটি আসত। তবে এখন তা অবৈধ ঘোষণা করে দিয়েছে সরকার। বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও নেই। ৬ তারিখ থেকেই হঠাৎ করে মাটির যোগান বন্ধ। খড় বেঁধেই মূর্তি রেখে দিতে হচ্ছে। কবে মাটি দেবো, কবে রং করব আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। এরকম চলতে থাকলে আমাদের মূর্তি শিল্প সংকটের মুখে পড়বে।

Leave a Comment