নেপালের পর সিকিমে ভয়াবহ ভূমিধস! তিস্তার জলপ্রবাহ রুদ্ধ হওয়ায় গুরুতর বিপর্যয়ের আশঙ্কা

অনন্যা সরকার, সিকিম: নেপাল এখনও বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ওঠেনি। তার মধ্যেই এবার ভারতীয় রাজ্য, সিকিম পড়লো প্রবল দুর্যোগের কবলে (Sikkim Landslide)। মধ্যরাতে পাহাড় ধসে তিস্তা নদীতে হল ভূমিধস। এরফলে জলের স্রোত হঠাৎ থমকে গেছে, তাই যেকোনও মুহূর্তে সমতলেও বড় রকমের বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর সিকিম আবারও বড়সড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন। তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলে এই ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটেছে। বিশাল পাথর ও মাটি ধসে পড়ায় দুটি নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সাময়িকভাবে রুদ্ধ হয়ে গেছে। তিস্তায় আবার জল জমে বিপদের ঝুঁকি বাড়ায় সিকিমের মঙ্গন জেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়।

সিকিমের ভূমিধসে জারি হল অ্যালার্ট

মঙ্গন জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতের মধ্যে চিয়াকুং নদীর উচ্চ অববাহিকায় এই ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটেছে। নাগা ফরেস্ট এলাকায় নবনির্মিত নাগা তোসা (নগ Tosa) সড়কের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। থেং টানেলের ঠিক বিপরীতে তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি জমে নদীর গতিপথ আংশিকভাবে রুদ্ধ করে দেয়। হঠাৎ জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হল, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

সিকিমের স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গন জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ভূমিধসের কারণে নদীর জল অত্যন্ত ঘোলা হয়ে গেছেঠিকই, তবে তিস্তার স্রোত পুরোপুরি থেমে যায়নি। একটি বিকল্প অংশ দিয়ে আংশিকভাবে জল প্রবাহিত হতে শুরু করাতে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভূমিধসের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চুংথাং থানার  অধিকারিকেরা। বর্তমানে সাঙ্কালাং এবং ফিদাং আউটপোস্ট এলাকাতেও জলস্তরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকীতে কটি স্পেশাল শাড়ি বানিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা?

তবে, নদীর প্রবাহে সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেই অবিলম্বে কন্ট্রোল রুমে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সাথেই প্রশাসন তিস্তা নদীর তীরবর্তী সমতল ও নীচু পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। রাস্তাঘাটের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ণয় করতে এবং কীভাবে দ্রুত ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে রাস্তা চলাচলযোগ্য করা যায় তা নির্ধারণ করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment