পাকিস্তানে পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢুকে হামলা জঙ্গিদের, ২১ ঘন্টার গুলির লড়াইয়ে নিহত ৩১

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানে (Pakistan) ভয়াবহ জঙ্গি (Terrorism) হামলা। পশ্চিমের দেশের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে পুলিশ লাইন এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন 31 জন পাকিস্তানি। TRT World এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার পাকিস্তান পুলিশের কম্পাউন্ডের ভিতরে থাকা মসজিদে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালান এক জঙ্গি। আর তারপরেই পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে কয়েক দফা সংঘর্ষ বাঁধে সন্ত্রাসীদের। দীর্ঘক্ষণ চলে গুলির লড়াই। তাতেই প্রাণ গিয়েছে অন্তত 31 জনের।

জঙ্গিদের সাথে একটানা সংঘর্ষ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পাকিস্তানে জুম্মার নামাজের সময় কোহাট পুলিশ লাইনের ভিতরে থাকা একটি মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা চালান জঙ্গিরা। একেবারে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে মসজিদের একেবারে কাছে গিয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান এক জঙ্গি। এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন একাধিক পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটানোর পরেই সাত জন জঙ্গি পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় শুরু হয় দুপক্ষের গুলির লড়াই।

এপি নিউজের রিপোর্ট বলছে, গতকাল একটানা 20 থেকে 21 ঘন্টা সংঘর্ষ চলে জঙ্গি এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের। ওই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একাধিক পুলিশের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। পরে জানা যায়, 21 জন থেকে জঙ্গি এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের সংঘর্ষের ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে 31। এছাড়াও আহত হয়েছেন শতাধিক। অ্যাসোসিয়েড প্রেসের রিপোর্ট বলছে, শুক্রবার জঙ্গিরা পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সেই সময় দু পক্ষের দীর্ঘ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় 6 জন জঙ্গির।

আরও পড়ুন: “বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ময়দানে নামল ভারত

প্রসঙ্গত, কোহাটের এই পুলিশ কম্পাউন্ডে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সাথে যুক্ত আধিকারিকদের আবাসন ছিল। মূলত সে কারণেই নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে সেখানে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলার সাথে TTP গোষ্ঠীর যোগ থাকতে পারে! তবে ঠিক কারা পুলিশ কমপাউন্ড চত্বরে হামলা চালালো তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।

Leave a Comment