পাশেই সিন্ধু নদী, তাও জলের জন্য হাহাকার পাকিস্তানে! ভারত নয়, রইল সংকটের আসল কারণ

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিগত বছরগুলিতে ভারত এবং পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও সিন্ধু জলবন্টন চুক্তির অধীনে জল পেয়ে এসেছে পশ্চিমের দেশ। তবে গত বছর পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরই পাকিস্তানের সাথে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। যার ফলে কার্যত মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের (Pakistan Water Crisis)। বারবার নরমে গরমে ভারতকে এই চুক্তি পুনর্বহাল করতে বলেছে তারা। তবে নয়া দিল্লি নিজের অবস্থান থেকে একটুও সরেনি। এমতবস্থায়, জলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে পাকিস্তানে! তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার জন্য নয় বরং জলের জন্য পাকিস্তানের এমন দুরবস্থার কারণ অন্য কিছু।

ভারতের জন্য নয় বরং অন্য কারণে জলের জন্য হাহাকার পাকিস্তানে!

1960 সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি। সেই সময় মধ্যস্থতা করেছিল বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি প্রধান নদীকে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ দিয়েছে। এই চুক্তির অধীনে ভারত পূর্বের নদী রাভি, বিয়াস ও সুতলজের জল ব্যবহারের অধিকার পেয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমের নদী সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের জল বরাদ্দ করা হয় পাকিস্তানের জন্য।

জানলে অবাক হবেন, ভারত কয়েক দশক ধরে তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ জল পাকিস্তানকে দিয়ে এসেছে। আসলে উজানের দেশ হিসেবে ভারত পশ্চিমের নদীগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ মেনে নেওয়ায় এইসব নদীর বেশিরভাগ জল ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যায় পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, এতদিন সিন্ধু নদী ব্যবস্থার মোট জলের 80 শতাংশই পেয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। ভারত পাচ্ছিল মাত্র 20 শতাংশ। সবচেয়ে বড় কথা, এই নদী অববাহিকাগুলিতে ভারতের ভৌগোলিক অঞ্চল ও জলাধার  বড় হওয়া সত্ত্বেও কম জল পেতো দিল্লি।

এদিকে, দেশের কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রে জলের জন্য পশ্চিমী নদীগুলির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল পাকিস্তান। সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় জল না পেয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা পশ্চিমের দেশের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান সিন্ধু নদের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকার পাশাপাশি বছরের পর বছর ধরে বেশি পরিমাণ জল পেয়েও সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারেনি। আসলে পাকিস্তানের মূল সমস্যা হল জল সংরক্ষণ ক্ষমতা না থাকা।

আরও পড়ুন: “বাকি জীবনটা আদালতে যাতায়াতেই কেটে যাবে” মমতা সুপ্রিম কোর্ট যেতেই কটাক্ষ দিলীপের

বলাই বাহুল্য, জলের সাথে বয়ে আসা পলির কারণে তারবেলা ও মংলার মতো বাঁধ অগভীর হয়ে পড়েছে। তাছাড়াও পাকিস্তানের এইসব বাঁধের অবকাঠামো যথেষ্ট দুর্বল এবং সেকেলে। এদিকে দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন করে উন্নত মানের বাঁধ তৈরি করতেও পারছে না ইসলামাবাদ! সে কারণেই জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে ভারতের প্রতিবেশী দেশটির। বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, ভারতের জন্য নয় বরং দশকের পর দশক ধরে বেশি জল পেয়েও তা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেনি পাকিস্তান, ঠিক সে কারণেই এখন জলের জন্য একপ্রকার হাহাকার করতে হচ্ছে তাদের।

Leave a Comment