পুজোর আগেই শেষ হবে রাস্তা মেরামতের কাজ, ট্র্যাফিক নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর আগেই ট্রাফিক নিয়ে বড় পদক্ষেপ। রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজরদারি আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। শুক্রবার সল্টলেকের আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক হেডকোয়ার্টারে চালু হল অত্যাধুনিক লাইভ ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও এলাকায় যান চলাচলের গতিবিধি এবং যানজটের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।

যানজট, দুর্ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য

এই নতুন কন্ট্রোল রুম চালু হওয়ার ফলে এবার থেকে যানজট, দুর্ঘটনা বা রাস্তায় তৈরি হওয়া অথবা অন্য কোনও সমস্যায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে আরও কড়া ভাবে সারা রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর নজর রাখা হবে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে কোথায় কী কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। পালসিট, ডানকুনি, ফারাক্কা ও ধুলাগড়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টও পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অধিকাংশ জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু এলাকায় নজরদারি ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

অভিযোগ জানাতে চালু নতুন হেল্পলাইন

শুধু তাই নয়, ট্রাফিক সংক্রান্ত সমস্যার কথা সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারে তার জন্য চালু করা হয়েছে নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০৩৪৫৮৯২২। যানজট, রাস্তায় সমস্যা কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কোনও অভিযোগ থাকলে এই নম্বরে ফোন করা যাবে। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করতে মোবাইল লিঙ্ক ও হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপরও জোর দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে বিবস্ত্র করে ঘোরাল স্থানীয়রা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চাঞ্চল্য

বর্ষার পর রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি চলাচল তো দূর, মানুষের হাঁটা চলার অবস্থাতেও থাকেনা। এই বেহাল পরিস্থিতি নিয়েও এদিন কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোথাও ছোট-বড় গর্তের কারণে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে, কোথাও আবার রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ। পুজোর আগেই এই ধরনের ভাঙা ও বিপদজনক রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পাহাড়ের যানজট ও পার্কিং সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং ও কালিম্পং-সহ পাহাড়ি এলাকায় পার্কিংয়ের জন্য জমি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Comment