পূরণ করলেন শৈশবের স্বপ্ন, এয়ার হোস্টেসের প্রশিক্ষণ ছেড়ে এখন ট্রাক চালক নেহা

অনন্যা সরকার, হিমাচল প্রদেশ: অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে শৈশবের স্বপ্নগুলো ম্লান হয়ে যেতে থাকে। তখন সেগুলোকে ছেলেমানুষী বলে মনে হয়। কিন্তু কেউ কেউ যৌক্তিকতার থেকেও আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেন, ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নগুলো বড় হয়ে পূরণ করতে চান। অনেকটা হিমাচল প্রদেশের মান্ডির বাসিন্দা নেহা ঠাকুরের মতো। ২৫ বছর বয়সী নেহা তাঁর এয়ার হোস্টেসের প্রশিক্ষণ ছেড়ে দিয়ে ট্রাক চালানোকে (Truck Driver) পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এটা তাঁর কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, বরং ছোটবেলা থেকে দেখে আসা একটি স্বপ্ন। ইনস্টাগ্রামের অফিসিয়াল ক্রিয়েটরস অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয় নেহা ঠাকুরের একটি ভিডিও, যেখানে তাঁকে বাবাকে গাড়ি চালাতে দেখতে দেখতে বড় হওয়ার স্মৃতিচারণ করতে দেখা গেছে।

ছোট থেকেই ট্রাকের প্রতি ভালবাসা নেহার 

ছোটবেলা থেকেই বড় টায়ার আর ভারী ট্রাকের প্রতি নেহার বিশেষ আকর্ষণ ছিল। এগুলো দেখলেই তার চোখ দুটো চকচক করে উঠতো, আর আজ সেই ট্রাকই তার পরিচয় এবং স্বপ্নের উড়ান হয়ে উঠেছে। কিন্তু তিনি শুধু বড় বড় হাইওয়েতে ট্রাক ছোটাতেই পটু নন, তার সাথে আকাশপথেও নিজের ছাপ রেখেছেন নেহা। তিনি একজন এয়ার হোস্টেস হওয়ার স্বপ্নও দেখতেন, যার জন্য চণ্ডীগড়ে প্রশিক্ষণ নেন কিছুদিন। তবে তাঁর ভাগ্য হয়তো তার জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।

নেহা ঠাকুরের বাবা একজন ট্রাকচালক ছিলেন এবং ছোটবেলায় প্রায়ই ট্রাকে চেপে স্কুল যেতেন তিনি। তার বাবার কর্মনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম ওইটুকু বয়স থেকেই নেহাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ২০২২ সালে যখন নেহা ট্রাক চালানোকে পেশা করা সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার বাবা বিনা দ্বিধায় তাকে সমর্থন করেছিলেন। হিমাচল প্রদেশের প্রথম মহিলা ট্রাকচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন নেহা।

আরও পড়ুন: শত্রুদের যম! হাজার কিমি পাল্লার KAL ড্রোনের পরীক্ষায় সফল ভারত

তবে, স্নাতক পাস করে নেহা পেশাদার বিমান সেবিকা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে চণ্ডীগড়ে যান। তিনি এটাকেই নির্দ্বিধায় তার পেশা হিসেবে বেছে নিতেই পারতেন, কিন্তু তিনি সবকিছুর ওপরে রাখেন নিজের আবেগকেই। আর এবিষয়ে পরিবারের সমর্থন সব সময় পেয়েছেন তিনি। তিনি শুধু নিত্যদিন ট্রাক নিয়ে নয়া নয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়েই পড়েন না, তার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দৈনন্দিন জীবনের ভিডিওও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, তার ট্রাক চালু হওয়ার সাথে সাথেই তার ক্যামেরাও চালু হয়ে যায়। কড়া রোদ হোক বা বৃষ্টি – আবহাওয়া যেমনই থাকুক না কেন, নেহা কখনও হাল ছাড়েন না। ট্রাক চালানোর প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাঁর ফলোয়ারদের সাথে ভাগ করে নেন।

Leave a Comment