প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনীতিতে একের পর এক নয়া সমীকরণ দেখে চলেছে সাধারণ মানুষ। একদিকে যেমন বিজেপি (Bharatiya Janata Party) ক্ষমতায় আসতেই পূর্বতন সরকারের একের পর এক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে ঠিক তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রতীক এবং নাম ফ্রিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমতাবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এলেন লাভপুরের দু’বারের বিধায়ক মণিরুল ইসলাম (Manirul Islam)। শোনা যাচ্ছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলেও এবার নাকি তাঁকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বিজেপি।
বিজেপি থেকে সরানো হবে মণিরুলকে?
এক সময় লাভপুরের দাঁড়কা পঞ্চায়েতে ফরওয়ার্ড ব্লকের উপপ্রধান ছিলেন মণিরুল ইসলাম। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরে তৃণমূলে ঢোকেন। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে লাভপুর কেন্দ্রের টিকিট পেয়ে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী কালে তাঁর রাজনৈতিক গুরু হিসাবে পরিচিত ফব-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মান্নান এবং বহু বামকর্মীকে দলে ঢোকান। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন কারণে অনুব্রতের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল শেষে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন মনিরুল ইসলাম। কিন্তু শোনা যাচ্ছে এবার নাকি বিজেপিও তাঁকে ছেড়ে দিতে চাইছে।
মণিরুলের বিজেপি পদ অস্বীকার বিজেপির
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল রবিবার, বীরভূমের সাওড়াগড়ে মোড়ে বিজেপির তরফে একটি জনসভার আয়োজন করেছিল। আর সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক নেতা বিধায়ক এবং সভাপতিগণ। কিন্তু উপস্থিতি ছিলেন না মনিরুল ইসলাম। আর সেই নিয়ে নানা শোরগোল দেখা যায়। পরে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি জানান যে, “ মণিরুল ইসলাম যদি বিজেপি হয়ে থাকে তাহলে বিজেপির নিয়ম কানুন সবটাই জানা উচিত। তিনি আদতে দলের কেউই নন। ”
আরও পড়ুন: তিস্তার স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল খুদে হাতি, মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুশি মা
লাভপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা ওরফে হাকুর সঙ্গে প্রচারেও নেমেছিলেন মণরুল। কিন্তু লাভপুরের বিধায়ক দেবাশীষ ওঝা স্পষ্ট জানান, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মনিরুলের সঙ্গে তিনি কোথাও কোন প্রচার করেননি। কারণ নাকি তিনি জানতেন মনিরুলের সঙ্গে প্রচার করলে তিনি ডাহা ফেল করবেন। ওনার কোন পদ নেই, বিজেপির কেউ হন না তিনি। অতীতে যেমন চাকরি বিক্রি করে নানা রকম দুর্নীতির কাজ করেছিলেন এখনও তাই বিজেপির নাম ভাঙিয়ে নানা অপরাধমূলক কাজ করছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “ ওনার সঙ্গে আমাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই।” অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বিজেপির অন্দরেও মণিরুলকে নিয়ে নানা সমালোচনা এবং জল্পনা চলছে এখন দেখার এই রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।