প্লাস্টিক নোট আসছে ভারতে, বড় পদক্ষেপ নিল RBI

অনন্যা সরকার, কলকাতা: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা কানাডার মতো এবার ভারতের নোটও তৈরি হবে প্লাস্টিক বা পলিমার (Polymer Banknote) দিয়ে। এই নোট জলে ভিজবে না, অনেক জোর লাগালেও ছেঁড়া যাবে না। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) শীঘ্রই দেশে এই ধরনের নোট প্রচলনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করতে চলেছে। ভারতে নতুন প্রজন্মের মুদ্রা প্রচলনের জন্য আরবিআই-এর পরিকল্পনার এটিই পরবর্তী ধাপ হতে চলেছে।

১০ ও ২০ টাকার নোট দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে

প্রাথমিক পর্যায়ে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কম মূল্যের নোট দিয়ে পলিমার নোটের পরীক্ষা করবে। সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, ১০ ও ২০ টাকার ছোট আকারের নোট দিয়ে প্রথম পাইলট প্রকল্পটি শুরু হবে। এই পরীক্ষার ফলাফল এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আরবিআই পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে সফল হয়, তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০২৭ সাল থেকে দেশে এই আধুনিক পলিমার বা প্লাস্টিক নোট পুরোপুরিভাবে চালু করতে পারে।

আরও পড়ুন: এবার বেসরকারিকরণের পথে IDBI ব্যাংক, মালিকানা যেতে পারে বিদেশি সংস্থার হাতে

ভারতীয় বাজারে পলিমার নোট চালু হওয়ার অর্থ এই নয় যে বিদ্যমান কাগজের নোটগুলো আর ব্যবহার করা  যাবে না, আরবিআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে নতুন নোট পুরোনো কাগজের নোটকে প্রতিস্থাপন করবে না। পলিমার এবং কাগজের নোট – উভয়ই বাজারে একসাথে চালু থাকবে। নয়া উপাদান দিয়ে তৈরি নোটের ব্যবহার শুরুর প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে করা হবে। নতুন নোট সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কাগজের নোট বাজারে থাকবে।

গ্লোবাল টেন্ডার জারি করেছে আরবিআই

আরবিআই-এর নোট-প্রিন্টিং ইউনিট একটি বিশ্বব্যাপী আগ্রহপত্র বা এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট (EOI) জারি করার পর এই পুরো প্রকল্পের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে। নোট ছাপানোর জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পলিমার সাবস্ট্রেট শিট তৈরি ও সরবরাহের জন্য টেন্ডার জারি করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, সারা বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারারদের উন্নত সুরক্ষা প্রদানকারী পলিমার সাবস্ট্রেট সরবরাহ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৮ই আগস্ট এই টেন্ডার আহ্বানের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।  

আরও পড়ুন: ATM-এ টাকার আকাল! ব্যাঙ্কগুলোর কাছে হিসেব চাইল RBI

নতুন নোটের বিশেষত্ব কী?

পলিমার দিয়ে তৈরি নোট প্রচলিত কাগজের নোটের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই হয়। এগুলি জল, ধুলো-ময়লা প্রতিরোধ করে। এছাড়াও, এই নোটগুলো সহজে ছিঁড়ে যায় না, ফলে এগুলো বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকে ও পরিষ্কারও রাখা যায়। পলিমার শিটের আরেকটি বড় সুবিধা হল, এতে সহজেই উন্নত সেফটি ফিচারগুলি যুক্ত করা যায়। ফলে এগুলি জাল করা প্রায় অসম্ভব। এই ধরনের মুদ্রার ব্যবহার দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। 

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সহ অনেক উন্নত দেশে দীর্ঘদিন ধরেই পলিমার ব্যাংকনোট ব্যবহার করা হয়। দেশের মুদ্রার আয়ু বাড়াতে এবং এর গুণমান উন্নত করতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আগেই পলিমার নোট চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। শীঘ্রই শুরু হতে চলা পাইলট প্রকল্পটি হবে প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। যদিও, এই বিষয়ে আরবিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। 

Leave a Comment