অনন্যা সরকার, কলকাতা: পুজোর ছুটির আগেই সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) পেতে চলেছেন। বুধবার অর্থ দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়। তবে, সরকারপোষিত স্কুল ও কলেজের শিক্ষাকর্মীদের এই ডিএ প্রাপকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের একাংশ এবার রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
মুখ্য সচিবকে দাবি জানিয়ে শিক্ষক সংগঠনের চিঠি
রাজ্য সরকার ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এক কিস্তিতে শোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সরকারি কর্মচারীদের পদমর্যাদা ওপর নির্ভর করে টাকা দেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হবে। গ্রুপ ‘এ’, গ্রুপ ‘বি’ এবং গ্রুপ ‘সি’ – এই তিন শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতার বকেয়া তাদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। আর গ্রুপ ‘ডি’ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে, বকেয়া অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
এর পাশাপাশি বলা হয়েছে যে, যেসব কর্মীর অবসরের আর তিন মাস বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের সম্পূর্ণ পাওনা জিপিএফ-এ না দিয়ে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মীদের বিষয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ অর্থ দফতরের এই বিজ্ঞপ্তিতে নেই। তাই শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষকদের এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (BTEA) রাজ্যের মুখ্য সচিবকে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। বিটিইএ তাদের চিঠিতে মুখ্যসচিবকে জানিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে সমস্ত বকেয়া মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষকদের প্রতি উদাসীন মনোভাব দেখাচ্ছে। তাঁরা মুখ্যসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা দুর্গাপুজোর আগেই মহার্ঘ ভাতার বকেয়ার প্রথম কিস্তিটা অন্তত পান।
আরও পড়ুন: বেতন বৃদ্ধির সাথে মিলছে অন্নপূর্ণা যোজনা, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আশা কর্মীদের
প্রসঙ্গত, আগের সরকারের আমল থেকেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক চলছে। সুপ্রিম কোর্টও বকেয়া ডিএ পরিশোধ করার জন্য রায় দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরা আদৌ তা পাবেন কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তৃণমূল সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ শিক্ষকদের মনে সন্দেহ তৈরি করেছিল। এর প্রতিবাদে গত ১৩ মার্চ শিক্ষকদের একটি অংশ ধর্মঘটের ডাক দেন। এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর যে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তাতেও শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের সরাসরি কোনও উল্লেখ নেই, যা আবারও শিক্ষকদের ধন্ধে ফেলেছে।