এক্সক্লুসিভ: সামনেই দুর্গাপুজো। উৎসবের সময় যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এবার বিরাট উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। বহুতলে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার (Fire Service) ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপরে জোর দিচ্ছে রাজ্যের দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর। জানা গিয়েছে, এবার আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জলবাহী ফায়ার টেন্ডার সহ সমগ্র পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে ৩৬ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে স্প্রে করা যাবে জল। পাশাপাশি ২২৬টি আধুনিক যান যুক্ত করা হচ্ছে দমকল বহরে।
অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে বিরাট পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
দমকল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন যানগুলির মধ্যে মোট ১৯৮টি মিড সাইজ ওয়াটার টেন্ডার থাকবে, যেগুলির জলধারণ ক্ষমতা হবে ২.৫ কিলোলিটার। এর সঙ্গে ২৫টি মাল্টিপারপাস ফায়ার টেন্ডার থাকবে, যেগুলির জলধারণ ক্ষমতা হবে ৬ কিলোলিটার এবং ৩টি আর্টিকুলেটিং ওয়াটার টাওয়ার থাকবে। এগুলি ৩৬ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে জল স্প্রে করতে পারবে। এর ফলে বহুতলে আগুন লাগলে তা খুব সহজেই নাগালের মধ্যে এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এমনকি এগুলি নতুন আবাসন বা ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলির কথা মাথায় রেখেই মোতায়েন করা হবে বলে দমকল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুর্গাপুজোর আর একটা মাসও বাকি নেই। বিগত বছরের ৯৯টি জায়গার পরিবর্তে এবার ১০৯টি স্ট্যান্ডবাই ফায়ার স্টেশন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। এছাড়া দমকলের মোটরবাইক বাহিনীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং মণ্ডপ পরিদর্শনের ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মণ্ডপগুলির অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা, প্রবেশ এবং প্রস্থান পথেও অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নবান্নের তরফ থেকে এই ফায়ার স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। এমনকি এই নতুন কেন্দ্রগুলির নির্মাণকাজ চলছে। জাতীয় অগ্নি নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, শহর অঞ্চলে প্রায় ৫ মিনিট আর গ্রামাঞ্চলে সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মধ্যে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এমনকি প্রতিটি পুজো কমিটি থেকে এক বা দু’জন সদস্যকে সরকারি খরচে বিনামূল্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে দমকল দফতরের তরফ থেকে। তারা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের কৌশল, অগ্নি নির্বাপণ এবং দ্রুত দমকলকে খবর দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকবেন। এছাড়া দমকল পৌঁছনোর আগে, আগুন লাগার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে তাঁদের মাধ্যমে।
আসন্ন দুর্গাপুজোর কথা মাথায় রেখেই দমকল এবং জরুরি পরিষেবা দফতরের তরফ থেকে এই আধুনিক সরঞ্জাম, দ্রুত রেসপন্স টাইম এবং প্রশিক্ষিত জনবলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ, অগ্নি নির্বাপণ, অগ্নি-প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল।