বাংলাদেশীদের পুশ-ইনের জের! ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক জামাত-ই-ইসলামির

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাম জমানা থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানা, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় একেবারে হাঁটুগেড়ে বসেছে। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতায় পালাবদল হতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার (Government of West Bengal)। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ রুখতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি জেলায় জেলায় বানানো হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কোনও রকম আপস নয় বলেই অনড় রাজ্য। অবৈধদের ওপার বাংলায় (Bangladesh) ফেরানোর কাজও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু এবার তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ওপার বাংলার ইসলামপন্থী সংগঠন জামাত-ই-ইসলামি (Jamaat-e-Islami on India)!

ভারতের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরাতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে এবার সুর চড়িয়েছে জামাত-ই-ইসলামি নামের রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, ভারত নাকি অনুপ্রবেশকারীদেরকে পুশ-ইন করছে। সেই অভিযোগ খাড়া করে এবার বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তারা। আজ অর্থাৎ ১২ জুন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এমনকি আগামী ১৫ জুন ঢাকায় একটি বৃহৎ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে মুসলিম এই সংগঠন। হাসিনা জামানার পর থেকেই ভারতবিদ্বেষী কাজকর্মে প্রথম সারিতে থেকেছে তারা। সেই সূত্রে এবার ফের ভারতের বিরুদ্ধে তারা ঘৃণা ছড়াতে চাইছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, ভারত জোর করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু এ বিষয়ে নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান জানিয়েছে। ভারতের স্পষ্ট দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদেরকেই শুধুমাত্র দেশে ফেরানো হচ্ছে। কোনও পুশ-ইন করা হচ্ছে না। যারা অবৈধভাবে এ দেশে বসবাস করছিলেন তাদের পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাই করার পরেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে শনাক্ত করার পর দুই দেশের মধ্যে প্রোটোকল এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত্তিতেই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। আর এ বিষয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে এবং সমস্ত নথি ও পরিচয় নিশ্চিত করার পরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাল্টে যাচ্ছে বাংলার ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘শস্য বিমা’ প্রকল্প! দুর্নীতি ঠেকাতে নতুন করে আবেদন

কিন্তু তাদের পাল্টা দাবি, অতীতেও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একাধিক বাংলাদেশীর প্রাণ গিয়েছে। সেই অভিযোগকে খাড়া করেই তারা সীমান্তে এবার বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তাদের একটাই দাবি, ভারত তাদের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াতে চাইছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত বহু অনুপ্রবেশকারীকে ওপার বাংলায় ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এমনকি আরও ৮৩৬ জনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলছে। আর খুব তাড়াতাড়িই রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

Leave a Comment