অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্ষার সাপের (Snake) উপদ্রব বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের বাড়িতে বাগান বা আশেপাশে ঝোপঝাড় রয়েছে। বর্ষাকালে এমনিতেই চারপাশে সবুজের সমারোহ, তার সাথে আগাছাও বাড়ে পাল্লা দিয়ে। আর বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গাছপালার মধ্যে আশ্রয় খোঁজে সাপ। সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয় যে, বিশেষ কিছু সুগন্ধি গাছ রয়েছে, যা সাপেদের আকর্ষণ করে। এই বিষয়টি কি আসলেই সত্যি? আসুন জেনে নিই।
সুগন্ধি গাছের আকর্ষণে আসে সাপ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপ আসলে ফুল বা কোন বিশেষ গাছের গন্ধ শুঁকে সেখানে আসেনা। তারা আসে আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে। যেসমস্ত গাছপালার আশেপাশে পোকামাকড়, ব্যাঙ, টিকটিকি বা ইঁদুররা বাসা বাঁধে, সেখানেই শিকারের সন্ধানে হানা দেয় সাপ। তাই কোনো গাছ সরাসরি সাপকে আকর্ষণ করে, এমনটা বলা যায় না। তবে কিছু গাছের আশেপাশে এই ধরনের পরিবেশ অবশ্যই সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সাপেদের উপদ্রব হয়। যে যে গাছের কাছে সাপ বেশি আসতে দেখা যায়, সেগুলি হল –
আরও পড়ুন: শিয়ালদহ স্টেশনে নয়া গেট, কোন কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন এই প্রবেশ পথ?
১. শিউলি গাছ: শিউলি বা পারিজাত ফুল তার উজ্জ্বল কমলা রঙের বৃন্ত ও অসাধারণ সুগন্ধের জন্য পরিচিত। রাতে ফোটা এই ফুলের সুগন্ধ বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যা নানা ধরনের পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে। আর সেই পোকামাকড়ের শিকারে ব্যাঙ এবং টিকটিকিও ওই এলাকায় এসে হাজির হয়। এই ছোট প্রাণীগুলো আবার সাপের খাদ্য, তাই বর্ষাকালে শিউলি গাছের আশেপাশে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
রোজমেরি গাছ: এই হার্ব বাড়ির বাগানে থাকলেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ সাপেদের লুকানোর জন্য আদর্শ এই গাছ। জনপ্রিয় এই ভেষজের ঘন পাতা মাটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদি ইঁদুর বা ছোট কোনো প্রাণী এর আশেপাশে বাসা বাঁধে, তবে সাপের আনাগোনাও হতে পারে। তাই, রোজমেরি গাছের নীচে শুকনো পাতা বা আবর্জনা জমতে দেওয়া ঠিক নয়।
রজনীগন্ধা গাছ: সুন্দর শুভ্র ফুল এবং সুগন্ধের জন্য অনেকেই বাড়িতে রজনীগন্ধা গাছ লাগান। এই গাছের চারপাশেও ছোট ছোট পোকামাকড় ভিড় করে। যেখানে পোকামাকর বেশি, সেখানেই ইঁদুর, ব্যাঙ হানা দেয়। তার পিছু পিছু আসে বিষধররাও।
জুঁই: এই ফুলের ঝোপ নিয়মিত ছাঁটাই করে পরিষ্কার রাখা উচিত। খুব দ্রুত ঘন হয় জুঁই লতা, তাই নিয়মিত ছাঁটাই না করলে ছোট প্রাণীরা আস্তানা গেড়ে বসতে পারে। তাই সাপের বিশ্রামের জন্যও এটি একটি আদর্শ জায়গা হতে পারে।
মর্নিং গ্লোরি: যদি বাড়িতে লাগান এই লতা, তাহলে বিশেষ মনোযোগী হন। দ্রুত বর্ধনশীল এই উদ্ভিদ অযত্নে রাখলে অনেক ঘন হয়ে উঠতে পারে। ঘন গাছের নীচে আর্দ্র জমি ইঁদুর, ব্যাঙের ঠিকানা হতে পারে। তাই সাপ আসার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: অতি সক্রিয় বর্ষা, দক্ষিণবঙ্গে ৮ জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি, আজকের আবহাওয়া
তবে বাড়িতে এই গাছগুলো থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। বাগান ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে এবং গাছের পরিচর্যা নিয়মিত করলে সাপকে ঠেকানো যায় সহজেই। তাই শুকনো পাতা, আবর্জনা, পাথর বা জল জমতে দেবেন না বাগানে। ঘাস কেটে রাখুন এবং সাপেদের অন্যতম খাদ্য ইঁদুরকেও দূরে রাখুন। ঝোপঝাড় পরিষ্কারের সময় আগে পরীক্ষা না করে, তার মধ্যে হাত দেবেন না।