অনন্যা সরকার, কলকাতা: কথায় বলে, কোনো কিছু অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে এবং লক্ষ্য অর্জনের দিকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে সাফল্য আসবেই। এই যাত্রায় পরিবারের স্থিতি বা আর্থিক অবস্থা কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা আইএএস দৃষ্টি জয়সওয়ালের কাহিনীটিও এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত (UPSC Success Story of IAS Drishti Jaiswal)। ইউপিএসসি-তে তাঁর উত্তীর্ণ হওয়ার যাত্রা অনুপ্রেরণা যোগায় বহু তরুণ-তরুণীদের। তাঁর বাবা একটি ছোট মুদির দোকান চালাতেন, আর মা ছিলেন গৃহিণী। আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও, দৃষ্টি আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপও দেন। তিনি তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টায় এই সাফল্য অর্জন করেন এবং ইউপিএসসি ২০২২ পরীক্ষায় ২৫৫তম স্থান অধিকার করে নেন। আসুন, তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আইএএস হওয়ার যাত্রা
দৃষ্টি জয়সওয়াল উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরের মহড্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা রামশঙ্কর জয়সওয়াল চার ফাটক রোডের কাছে একটি মুদি দোকান চালান, আর অন্যদিকে সংসার সামলান মা। তবে ছোট দোকান হলেও দৃষ্টির বাবা দেখেছিলেন অনেক বড় স্বপ্ন। সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তোলার জন্য রামশঙ্কর জয়সওয়াল কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখেননি, দৃষ্টির দাদা এখন একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।
আইএএস দৃষ্টি জয়সওয়াল তাঁর সম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনটাই কাটিয়েছেন গোরক্ষপুরেই। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য তিনি সেন্ট জুডস স্কুল এবং ডিভাইন পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। তিনি ২০১৮ সালে গোরক্ষপুরের মহারানা প্রতাপ পিজি কলেজ থেকে বি.এসসি.-তে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং এরপর সমাজবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। এক সাক্ষাৎকারে দৃষ্টি জানান যে, পরিবারের সাহায্যের কারণেই তাঁর পক্ষে ইউপিএসসি-র মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বাবা ও দাদার সমর্থনের জন্যই তিনি এই প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
আরও পড়ুন: পিয়ন থেকে টেম্পো ড্রাইভার, চারবারের চেষ্টায় UPSC ক্র্যাক মনোজের হলেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার
তবে, ইউপিএসসি-র এই পথটি দৃষ্টির কাছে মোটেই সহজ ছিল না। তিনি পরপর তিনবার ইউপিএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। এই কয়েকটা বছর তাঁর মনোবল ও আত্মবিশ্বাসকে প্রায় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। তবে, পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ ও সহায়তায় আইএএস দৃষ্টি তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হন। জানিয়ে রাখি, দৃষ্টির স্বামী হলেন মানসভি শর্মা ২০২৩ ব্যাচের একজন আইপিএস (IPS) অফিসার। তিনি মূলত হরিয়ানার বাসিন্দা, তবে মধ্যপ্রদেশে ক্যাডারে নিযুক্ত হন। তিনি ৬ বারের চেষ্টায় ইউপিএসসি পরীক্ষায় ১০১তম র্যাঙ্ক অর্জন করতে সফল হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ইউপিএসসি-তে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এলবিএসএনএএ (LBSNAA)-তে প্রশিক্ষণ শেষ করে দৃষ্টিকে প্রথমে কর্ণাটক ক্যাডারে নিযুক্ত করা হয়। তবে, মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার মানস্বী শর্মার সাথে বিয়ের পর, কেন্দ্রীয় পার্সোনেল ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রণালয় তাঁকে মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারে স্থানান্তরিত করে। বর্তমানে তিনি ওই রাজ্যের ক্যাডারে কর্মরত এবং রেওয়া জেলার সিরমৌরে এসডিএম (SDM) পদে কাজ করছেন।