বিড়ি বেঁধে পড়িয়েছেন মা, চরম প্রতিকূলতার মধ্যে UPSC পাস করে ছেলে আজ IAS

অনন্যা সরকার, তেলেঙ্গানা: সাফল্য কোনও বিশেষ পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হয় না, যদি সংকল্প দৃঢ় হয়, তবে প্রিয়জনকে হারানো থেকে চরম দারিদ্র – কোনও কঠিন পরিস্থিতিই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তেলেঙ্গানার বাসিন্দা নন্দলা সাই কিরণ এই কথাটিই সত্যি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন (UPSC Success Story of Nandala Sai Kiran)। সাই কিরণ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ২৭তম র‍্যাঙ্ক (AIR 27) অর্জন করে আইএএস অফিসার হওয়ার নিজের ও তাঁর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। সাই কিরণের এই সাফল্য সারা দেশের সেই সমস্ত লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস রাখে। আসুন তাহলে নন্দলা সাই কিরণের এই অসামান্য সাফল্যের যাত্রাটি কেমন ছিল, জেনে নেওয়া যাক।

দারিদ্র্য ও মায়ের সংগ্রামের সাক্ষী হয়ে IAS হওয়ার অঙ্গীকার সাই কিরণের 

নন্দলা সাই কিরণের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই দূর্বল। অল্প বয়সেই মারা যান বাবা, ফলে পরিবারের ভরণপোষণের সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের কাঁধে। সাই কিরণের মা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত ধরে বিড়ি বেঁধে তাঁর ছেলেকে বড় করেছেন এবং তার পড়াশোনার সমস্ত খরচ জুগিয়েছেন। মায়ের আঙুলের ফোস্কাগুলো ও তাঁর নিত্যদিনের কঠোর পরিশ্রম দেখে সাই কিরণ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মায়ের এই সংগ্রামকে তিনি বৃথা যেতে দেবে না, জীবনে বড় কিছু করবেনই। 

দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করে সাই কিরণ ওয়ারঙ্গলের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT)-তে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজ জীবনেই ইউপিএসসি-র প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। তাই বি.টেক সম্পন্ন করে তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক করেন কর্পোরেট চাকরি নয়, ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করবেন তিনি।

আরও পড়ুন: ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামী, ছাগলের দুধ খাইয়ে সদ্যজাতকে মানুষ করছেন অসহায় ঝুমাদেবী

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির এই যাত্রা তার কাছে মোটেই সহজ ছিল না। কিন্তু সীমিত সংস্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকা সত্ত্বেও, সাই কিরণ তাঁর লক্ষ্য থেকে একচুলও সরেননি। কোনো কোচিংয়ের সাহায্য ছাড়াই প্রতিদিন নিয়ম মেনে বেশ কয়েক ঘণ্টা স্ব-অধ্যয়ন করতেন। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রমের ফলও পান হাতেনাতে। ২০২৩ সালে তিনি দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা বিবেচিত, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস এক্সামে শুধু উত্তীর্ণই হননি, সারা ভারতের মধ্যে ২৭তম র‍্যাঙ্কও অর্জন করে নেন।

ইউপিএসসি-এর ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর যখন নন্দলা সাই কিরণের আইএএস উত্তীর্ণ হওয়ার খবর তাঁর বাড়িতে পৌঁছালো, তখন তাঁর মায়ের চোখ দুটো আনন্দাশ্রুতে ভরে যায়। যে হাতগুলো একসময় বিড়ি বেঁধে তাঁর ছেলের পড়াশোনা খরচ জুগিয়ে গেছে, সেই হাতের মর্যাদা রেখেছেন সাই কিরণ। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনী এটাই শেখায় যে, যদি কঠোর পরিশ্রম করার মানসিক জোরের সাথে সততা ও স্বপ্নের প্রতি অঙ্গীকার থাকে, তাহলে এই পৃথিবীতে কোনও কিছুই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

Leave a Comment