অনন্যা সরকার, রাজস্থান: যখন কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও দেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা একত্রিত হয়, তখন সমাজের সামনে স্থাপন করা যায় দৃষ্টান্ত। রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা কনিষ্ক কাটারিয়ার কাহিনীটিও (Success Story of IAS Kanishak Kataria) এরকমই। নিজের যোগ্যতার জোরে তিনি সেই পদটি অর্জন করে নিয়েছেন, যা দেশের প্রত্যেকটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন। কনিষ্ক ২০১৮ সালে প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ১ (AIR-1) অর্জন করে পুরো দেশকে অবাক করে দেন। এমনকি, সিভিল সার্ভিসের জন্য তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরিরও। আসুন তাহলে কনিষ্ক কাটারিয়ার এই অভূতপূর্ব সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
আইআইটি বোম্বে থেকে বিদেশে চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি
জয়পুরের বাসিন্দা কনিষ্ক ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি আইআইটি জেইই (IIT JEE) পরীক্ষায় ৪৪ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন এবং দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইআইটি বোম্বে (IIT Bombay) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক হওয়ার পর, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় টেক কোম্পানি স্যামসাং-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হন, যেখানে তাঁকে কোটি টাকার প্যাকেজ অফার করা হয়েছিল। এরপর তিনি বেঙ্গালুরুতেও ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।
কিন্তু দেশে ও বিদেশে বিলাসবহুল জীবন ও মোটা অঙ্কের বেতন সত্ত্বেও, তিনি মনের সন্তুষ্টি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কনিষ্ক কেবল টাকার জন্য কাজ করতে চাননি, তিনি ভারতের উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে চেয়েছিলেন। দেশের সেবা করার এই স্বপ্ন নিয়ে কনিষ্ক তাঁর উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজেকে পুরোপুরি ইউপিএসসি-র প্রস্তুতিতে নিয়োজিত করেন। তিনি প্রায় ৭-৮ মাস দিল্লিতে কোচিং ক্লাসে পড়াশোনা করেন, তারপর পড়াশোনায় আরও ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়ার জন্য জয়পুরে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন: মুদির মেয়ের বাজিমাত! সমাজের কটাক্ষ উড়িয়ে ৩ বার UPSC ক্র্যাক করে IAS হুগলির শ্বেতা
গণিতের প্রতি কনিষ্কের গভীর আগ্রহ ছিল, তাই যে বিষয়কে বেশিরভাগ মানুষ কঠিন বলে মনে করেন, তিনি সেটিকেই ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বেছে নেন এবং অঙ্কে চমৎকার নম্বরও পান। মূল পরীক্ষার মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া ও সব ধরনের মনোযোগ বিঘ্নকারী বিষয় থেকে পুরোপুরি সরে আসেন। কনিষ্ক বিশ্বাস করেন যে, বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজেকেই প্রশ্ন করা উচিত – কেন তিনি একজন আইএএস হতে চান। এই প্রেরণাই দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। কনিষ্ক কাটারিয়ার এই সাফল্যের গল্পটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শেখায় যে, যদি জীবনে সুস্পষ্ট লক্ষ্য এবং দৃঢ় সংকল্প থাকে, তবে সাফল্য অর্জনের পথে কোনও কিছুকেই আর বাধা বলে মনে হবে না।