আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (WBPSC) ক্লার্কশিপ পরীক্ষা (Clerkship Examination) ২০২৪-এর আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) বিভিন্ন দফতরে ক্লারিক্যাল বা করণিক পদে নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনিও কি এই পরীক্ষায় অংশ নিতে চান? তাহলে জেনে নিন বিস্তারিত। তাহলে এই প্রতিবেদনে জেনে নিন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, বয়স, বেতন, সময়সীমা, এবং আবেদন সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য।
কোন পদে নিয়োগ?
এই পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক এবং একই ধরনের ক্লারিক্যাল পদে নিয়োগ করা হবে। এছাড়া সেক্রেটারিয়েট, ডিরেক্টরেট, জেলা দফতর এবং আঞ্চলিক দফতরে এই ধরনের পদে চাকরির সুযোগ মিলতে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
এই নিয়োগে আবেদন করার জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এর পাশাপাশি কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। টাইপিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে। প্রার্থীকে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০টি শব্দ অথবা বাংলায় প্রতি মিনিটে ১০টি শব্দ টাইপ করতে সক্ষম হতে হবে।
বয়সসীমা
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি তারিখের হিসাবে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪৫ বছর হতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সে ছাড় পাবেন।
বয়সে কত ছাড়?
পশ্চিমবঙ্গের তফশিলি জাতি এবং তফশিলি উপজাতি প্রার্থীরা সর্বোচ্চ বয়সসীমায় ৫ বছর পর্যন্ত ছাড় পাবেন। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত বয়সের ছাড় রয়েছে। প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়সে ছাড় প্রযোজ্য হবে।
বেতন কত?
নির্বাচিত প্রার্থীদের পে লেভেল ৬ অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। ২২,৭০০ টাকা থেকে ৫৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বাড়িভাড়া ভাতার মতো অন্যান্য সুবিধাও পাওয়া যাবে।
আবেদন কবে থেকে শুরু?
ক্লার্কশিপ পরীক্ষা ২০২৪-এর অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। আবেদনের শেষ সময় ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩টে ৩০ মিনিট।
ফর্মে কোনও ভুল থাকলে সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে। সংশোধনের সময়সীমা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ২০২৬।
আবেদন ফি
এই পরীক্ষায় আবেদন করার জন্য সাধারণ প্রার্থীদের ১১০ টাকা ফি দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য পরিষেবা বা পেমেন্ট চার্জ যুক্ত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকা যোগ্য প্রার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ফি-তে ছাড় পাবেন।
কীভাবে আবেদন করবেন?
- পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।প্রথমে
- কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্লার্কশিপ পরীক্ষা ২০২৪-এর আবেদন লিঙ্কে যেতে হবে।
- এরপর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিতে হবে।
- এরপর প্রয়োজনীয় নথির তথ্য দিয়ে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদন ফি জমা করে ফর্মটি সাবমিট করতে হবে।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর ফর্মের একটি কপি রেখে দেওয়া উচিত।
একজন প্রার্থী একাধিক আবেদন করতে পারবেন না। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
কী কী নথি প্রয়োজন হতে পারে?
- আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্যের পাশাপাশি বৈধ পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হবে।
- পরীক্ষার সময় আবেদনপত্রে যে পরিচয়পত্রের প্রমাণ দিয়েছেন তার মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
- মাধ্যমিকের ছবি-সহ শংসাপত্র, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ কমিশনের নির্ধারিত
- বৈধ পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
- সংরক্ষিত শ্রেণির সুবিধা নিতে চাইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈধ জাতিগত শংসাপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথিও প্রয়োজন হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া
এই নিয়োগে একাধিক ধাপে প্রার্থী বাছাই করা হবে।
- প্রথম ধাপ: পার্ট ওয়ান লিখিত পরীক্ষা
- দ্বিতীয় ধাপ: পার্ট টু লিখিত পরীক্ষা
- শেষ ধাপ: কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষা
প্রথমে পার্ট ওয়ান পরীক্ষা নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জনকারী প্রার্থীদের পরবর্তী পার্ট টু পরীক্ষায় ডাকা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণকারীদের কম্পিউটার ও টাইপিং দক্ষতা যাচাই করা হবে।
পার্ট ওয়ান পরীক্ষার প্যাটার্ন
পার্ট ওয়ান পরীক্ষা হবে মোট ১০০ নম্বরের। থাকবে ১০০টি অবজেক্টিভ ধরনের প্রশ্ন। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
বিষয় অনুযায়ী নম্বর বিভাজন,
- ইংরেজি – ৩০ নম্বর
- জেনারেল স্টাডিজ – ৪০ নম্বর
- অ্যারিথমেটিক – ৩০ নম্বর
ইংরেজি অংশে শব্দভাণ্ডার, ব্যাকরণ, বাক্য গঠন, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ-সহ বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকতে পারে।
জেনারেল স্টাডিজে সাধারণ জ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, সাম্প্রতিক ঘটনা, ভারতীয় ইতিহাস ও ভূগোলের প্রাথমিক বিষয় থাকতে পারে।
অ্যারিথমেটিক অংশে ভগ্নাংশ, দশমিক, সরলীকরণ, গড়, অনুপাত, শতকরা, সরল সুদ, লাভ-ক্ষতি, সময় ও দূরত্ব, ক্ষেত্রফল-সহ বিভিন্ন অঙ্ক থাকতে পারে।
পার্ট টু পরীক্ষার প্যাটার্ন
পার্ট টুতে কনভেনশনাল ধরনের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। মোট নম্বর ১০০ এবং পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা।
- গ্রুপ এ – ইংরেজি: ৫০ নম্বর
- গ্রুপ বি – বাংলা/হিন্দি/উর্দু/নেপালি/সাঁওতালি: ৫০ নম্বর
ইংরেজি অংশে রিপোর্ট লেখা, গদ্যাংশের সারাংশ বা প্রিসি লেখা এবং নির্দিষ্ট ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের মতো প্রশ্ন থাকতে পারে।
কম্পিউটার ও টাইপিং পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষার ধাপ পেরোনোর পর প্রার্থীদের কম্পিউটার অপারেশন এবং টাইপিং দক্ষতা যাচাই করা হবে।
আবেদনকারীকে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে অন্তত ২০টি শব্দ অথবা বাংলায় প্রতি মিনিটে ১০টি শব্দ টাইপ করতে সক্ষম হতে হবে।
পরীক্ষা কবে?
ক্লার্কশিপ পরীক্ষা ২০২৪-এর পার্ট ওয়ান পরীক্ষা ডিসেম্বর ২০২৬ নাগাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ কমিশনের তরফে পরে জানানো হবে।
শূন্যপদ কত?
এই নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও মোট শূন্যপদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। কমিশন পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি বা আপডেটের মাধ্যমে শূন্যপদের সংখ্যা জানাবে।
আরও পড়ুন: আরও গ্যাঁড়াকলে অভিষেকের আপ্তসহায়ক! এবার বালি মামলায় জেল হেফাজত সুমিত রায়ের
প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
আবেদন করার আগে নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন। ফর্মে কোনও ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করুন।