সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: “মৃত্যুকে ভয় পাই না! এই বছরই দেশে ফিরব।” স্পষ্ট বার্তা দীর্ঘ দুই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)। এমনিতেই মৃত্যুদণ্ডের মতো সাজা ঝুলছে তাঁর মাথার উপর। কিন্তু সেই সমস্ত বাধাকে তোয়াক্কা করেই নির্ভীক ঘোষণা করলেন হাসিনা। এমনকি চ্যালেঞ্জ করে জানিয়ে দিলেন, “১৯৭৫ সালে গোটা পরিবারকে হারিয়ে আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমাকে বহুবার মারার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ওরা ব্যর্থ হবেই।”
দেশে ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার
দীর্ঘদিন ধরে ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় গদিচ্যুত হওয়ার পর বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে। তারপর জল অনেকদূর গড়িয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনূস। প্রায় বছরখানেক ধরেই চলে নোবেলজয়ী উপদেষ্টার আওতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু হাসিনার আমলে ঘটা গণহত্যা মামলায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এমনকি ওপার বাংলায় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ। এরপর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকা হাসিনা এবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে ফেরা তাঁর কোনও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক নয়। বরং তা বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, “আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতার পরিবর্তন করেছে। তবে মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে কোনও সময় মুছে ফেলা যাবে না।
আরও পড়ুন: ৭ দিন ডেডলাইন, শিয়ালদা ফ্লাইওভার ও সুকান্ত সেতু খালি করতে পুরসভার নোটিশ
এমনকি হাসিনার দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে যেভাবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয় তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি বলেন, “নির্বাচন ছাড়া অসংসদীয় একটা সরকারের অনৈতিক বিচার প্রক্রিয়া। আমাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়ে ওরা আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, সমস্ত বাধা এবং ষড়যন্ত্র পেরিয়ে আমি এই বছরই দেশে ফিরব। আপনার মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগ কোনও কাগজ-কলমের দল নয়। এটা জনগণের দল। যতবারই আমার সামনে বাধা এসেছে, ততবারই জনসমর্থনের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবার গণতন্ত্র ফিরে পাবে আর আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াবে।”