সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তোলপাড় গোটা দেশ। বিরোধীদের একটাই দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বাংলায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলেই খবর। তবে বাংলার পর কর্ণাটকসহ (Karnataka SIR) আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলে এসআইআর। সফলভাবে তা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশিত হল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর সেই অনুযায়ী, কর্ণাটকে এবার ১ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
কর্ণাটকে বাদ ১ কোটি ভোটারের নাম
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে কর্ণাটকে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ১১ জন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৩১৪ জন। অর্থাৎ চূড়ান্ত তালিকা থেকে সব মিলিয়ে বাদ গিয়েছে প্রায় ৯৯.৩০ লক্ষ বা প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম।
অন্যদিকে খসড়া ভোটার তালিকার তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় নতুন ভোটারের সংখ্যা ৮.৬৪ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। তারপর সংশোধন এবং নতুন আবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যানে কিছুটা পরিবর্তন হয়। রিপোর্ট বলছে, রাজ্যে মোট পুরুষ ভোটার ২.২৫ কোটির বেশি, মহিলা ভোটার ২.২৯ কোটির বেশি, থার্ড জেন্ডার ভোটার ২ লক্ষ ৮ হাজার ৪১ জন, নতুন ভোটার ৬.৮৩ লক্ষের বেশি এবং বয়স্ক ভোটার ৩.৯২ লক্ষের বেশি।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের এই যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন ত্রুটি আর কারণবশতই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকার থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৮০.৬২ লক্ষ নাম এমন ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে যারা অন্য স্থানে চলে গিয়েছেন বা যাদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তালিকা থেকে ১৬.৩৯ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
আরও পড়ুন: “অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে” গাইঘাটার এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্তের মা
এদিকে একাধিক জায়গায় নাম নথিভুক্ত থাকার কারণে বাদ গিয়েছে ৭ লক্ষের বেশি অতিরিক্ত ভোটারের নাম। তার পাশাপাশি ৩.৩০ লক্ষ অন্যান্য ক্যাটাগরির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের নাম ঠিকানা পরিবর্তন বা যাচাই না হওয়ার কারণে তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যে নতুন ভোটারদের আবেদনপত্রসহ মোট ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়েছিল।