আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) আগাম জামিনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন মোড়। সূত্রের খবর ব্যক্তিগত কারণে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। ফলে মামলাটি এবার নতুন বেঞ্চে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি!
গায়ক হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল সেন রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন সক্রিয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি হুগলির চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রি, ইউনেস্কোর নাম করে অর্থ সংগ্রহ এবং সরকারি দফতরের টেন্ডার ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগগুলির মধ্যে সরকারি অর্থের লেনদেন ও কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের আদালত এই মামলায় তাঁকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করে। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের টেন্ডারের অর্থ কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরানো হয়ে থাকতে পারে। সেই অর্থের লেনদেনের সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর পরিবারের একাউন্টের নথিপত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আদালতও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীলের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধমূলক ভূমিকার যথেষ্ট প্রমাণ দেখানো হয়নি এবং কাকতালীয়ভাবে ঠিক সরকার পরিবর্তনের পরই তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
আরও পড়ুন: “অপরাধ করেছে, শাস্তি পেয়েছে” গাইঘাটার এনকাউন্টার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযুক্তের মা
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের সরে দাঁড়ানোর ফলে মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হবে। এর আগে ইডি ইন্দ্রনীলের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে বলে। তদন্তকারীদের অনুমান, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। তবে এই অঙ্ক তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এটি এখনও আদালত দ্বারা প্রমাণিত নয়। নতুন বেঞ্চের শুনানিতে ইন্দ্রনীল আদৌ বেল পান কিনা এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: হাওড়া থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত শীঘ্রই মেট্রো চলবে! ২,৩৬৫ কোটির টাকা প্রকল্পের নতুন সমীক্ষা
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এই আবহে ইন্দ্রনীলের মামলাতেও সরকারি টেন্ডার, পুজোর পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত, প্রমাণ এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। ইন্দ্রনীল সেনের ক্ষেত্রে সেই আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান। শেষ পর্যন্ত তার কী পরিণতি হয়, সেই দিকেই নজর জনগণের।