সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হুগলির শ্রীরামপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভার অনুমতি দিলেও জমি জটিলতার কারণে তা পরে প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি এও অভিযোগ উঠছে, মমতার সভা ভেস্তে দেওয়ার জন্যই পুলিশ বেছে বেছে শুধুমাত্র কালীঘাট তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে এবং গত বেশ কয়েকদিন ধরে একাধিক নেতাকে গ্রেফতার করেছে। অনেকের আশঙ্কা, যে কোনও মুহূর্তে তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই ভয়েই এবার মমতাপন্থী তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী কর্মসূচির আগেই নিজেদেরকে আত্মগোপন করে ফেলেছেন।
মমতার সভা ঘিরে অনিশ্চয়তা
নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর উপর অত্যাচার চালিয়েছে বিজেপি। বরাবরই এমনটা অভিযোগ তুলে আসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি শ্রীরামপুরে পুলিশের বর্বরতা এবং কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদেই এই মিছিলের আয়োজন করে হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। ঐতিহাসিক মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে পুলিশের অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। গতকাল সকালে বিচারপতির বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিলেও পরে জমি জটিলতার কারণে ফের তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে বলেই অভিযোগ মমতার। পাশাপাশি পুলিশ বেছে বেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মীদের আটক করছে। এমনকি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অসিত মজুমদার সহ বহু নেতা বর্তমানে ঘরছাড়া। পুলিশের ভয়ে তাঁরা মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ করে রেখেছেন। কেউ কেউ ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়ে বসে রয়েছেন। আবার কেউ কলকাতায় নিজেদের আত্মীয়ের বাড়িতেই রয়েছেন। তবে সভার ঘোষণা হলেও এলাকায় এখনও পর্যন্ত ব্যানার বা হোর্ডিং চোখে পড়েনি।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিপ্লবীরা যেভাবে দিনের পর দিন আত্মগোপন করে দলের কাজকর্ম করতেন, ঠিক সেভাবেই মমতার সভার আগে হুগলি জেলার তৃণমূল নেতারা তাঁদেরকে বিপ্লবীদের সঙ্গেই তুলনা করছেন। তবে নিচু তলার বহু কর্মী এখনও মমতার হাত ধরে কালীঘাট শিবিরে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। কিন্তু অসিত মজুমদার সহ একাধিক চেনা মুখ এবার পুলিশের ভয়ে গ্রেফতারি এড়ানোর জন্যই সভার আগে গা ঢাকা দিয়ে চলছেন বলেই দলের অন্দরমহল সূত্রে খবর।