প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পুজোয় এবার সিপিএমের বইয়ের স্টল (CPIM Book Stall) বসানোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে একের পর এক বিতর্ক। কোথাও বইয়ের স্টল তৈরির অনুমতি না পাওয়ার উঠে আসছে অভিযোগ তো কোথাও আবার স্টল বাঁধতে গিয়ে বিজেপির কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠে আসছে। আর এবার রাতের অন্ধকারে সিপিএমের স্টল ভাঙচুর (CPIM Book Stall Vandalism) করা নিয়ে ভয়ংকর অভিযোগ তুললেন সিপিএম কর্মী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে এল স্টল ভাঙচুরের একাধিক চিত্র।
সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার, সিপিএম কর্মী গার্গী চট্টোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাতের অন্ধকারে নাকি বিজেপির দুষ্কৃতীরা বিজপুর পানপুর গ্রামীন এরিয়া কমিটির অভ্যন্তরে পলাশী মাঝি পাড়া এলাকার চারাপোল মোড়ের সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। যদিও সেই আগুন ভয়ংকর আকার ধারণ করার আগেই স্থানীয় দু-একজন জল দিয়ে নিভিয়ে দেয়। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার পলতা শান্তিনগর বুক স্টলেও ভাঙচুর করা হয়। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি পোস্টও করেন গার্গী চট্টোপাধ্যায়।
অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে
সিপিএমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুজোর সময়ে যে সব জায়গায় বইয়ের স্টল বসে এসেছে, এ বছর সেখানে অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিজেপি কর্মীরা সমস্যা তৈরি করছে। নৈহাটি, বনগাঁ ও যশোর রোড সংলগ্ন এলাকাতেও অস্থায়ী বইয়ের স্টল তৈরিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই প্রগতিশীল সাহিত্য বিক্রির উদ্যোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুজোর সময়ে প্রগতিশীল সাহিত্য ও মতাদর্শের প্রচার ঘিরেও বাধার অভিযোগ তুলেছে বাম সংগঠনগুলি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ওষুধে ৫০% ছাড় থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের চালু হল হেলথ কার্ড
এদিকে পুজোর মণ্ডপ চত্বরে বামেদের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের স্টল করতে বাধা দেওয়া এবং হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, “বিরোধী স্বর বন্ধ করা গণতন্ত্র নয়। ওঁরা বই বিক্রি করতে চান, খাবার বা ক্ষতিকারক কিছু নয়।” এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা জানিয়েছেন, “কোর্ট যেটা বলবে, সেটা হবে। রাজ্য সরকার তো কোনও কিছু করেনি। আটকেছে জনগণ। অতত্রব আমাদের সেখানে কোনও বক্তব্য নেই।”