অনন্যা সরকার, কলকাতা: গ্রাম গঞ্জে সাপ (Snake) নিয়ে খেলা দেখাতে আসা সাপুড়েদের এখনও দেখা যায়। মানুষ তাদের খেলা দেখতে পছন্দও করেন। কিন্তু জানেন কি এর পিছনে লুকিয়ে আছে এমন সত্য, যা শুনলে গা শিউরে উঠবে। এই সাপুড়েরা শুধু সাপের খেলা দেখায় না, গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাপ ধরেও। সাপ সর্ম্পকে গ্রামবাসীদের এমন নানা তথ্য দেয়, যা করতে পারে মারাত্মক ক্ষতি (Misconceptions about snakes)। এই সাপুড়েরা সঙ্গে রাখে নানা শিকড়-বাকর, তাবিজ-মাদুলি, তারা দাবি করে এর গন্ধে সাপ পালায়। তাদের এই দাবিগুলো কি সত্যি, নাকি মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা রোজগার করার ফন্দি। কী বলছেন সর্পবিদ, পরিবেশকর্মী ও সাপ উদ্ধারকারীরা?
সাপ নিয়ে কুসংসার ছড়িয়ে অর্থ রোজগার
বন্যপ্রাণী সর্ম্পকে সকল মানুষের কাছে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু মানুষ ব্যবসা ফেঁদে বসেন। তাদের ভুলভাল বুঝিয়ে অর্থ রোজগার করেন। সাপ নিয়ে এই ধরনের কুসংস্কার সবথেকে বেশি। বিষধর সাপ কামড়ালে এখনও কিছু মানুষ দ্রুত হাসপাতালে না পৌঁছে ওঝার শরণাপন্ন হন, তাছাড়া হাতুড়ে চিকিৎসায় ভরসা করেন। কিন্তু এরফলে হতে পারে মারাত্মক ক্ষতি, প্রাণ চলে যাওয়াও বিচিত্র নয়। কিন্তু তবু মানুষ এখনও এই ভুল করে চলেছেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার কাছেই রয়েছে এক রহস্যময় সৈকত, যেখানে সমুদ্র হারিয়ে যায় ১০ কিমি অবধি
সাপুড়েরা বোঝায় তাদের দেওয়া ওষুধ খেলে সাপের বিষ নেমে যাবে, বা সর্পগন্ধার (Sarpagandha) মূল গায়ে বাঁধলে, সেই গন্ধে সাপ ধারে কাছে ঘেঁষবে না। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। কোনও শিকড়-বাকর দিয়ে সাপকে আটকানো যায় না। তাদের ঘ্রাণশক্তি রয়েছে বটে, কিন্তু তারা মানুষের মতো নাক দিয়ে নয়, জিভ দিয়ে গন্ধ নেয় এবং এর ব্যবহার করে তারা শিকারের জন্য। তাই তাবিজ কবজ মাদুলি কোনও কাজ দেয় না। কিন্তু সাপুড়ে বা ওঝারা সহজ সরল মানুষদের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে তাদের বোকা বানান।
আরও পড়ুন: মেয়ে হওয়ায় কচু বাগানে ফেলে পালায় মা! অসুস্থ বাবা, অনাহারে দিন কাটছে ছোট্ট তৃষ্ণার
সর্পবিদ, বিজ্ঞানী বা সাপ উদ্ধারকারীরা বারংবার বলে থাকেন বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচতে হলে একমাত্র উপায় হল, আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে আসা এবং অ্যান্টি-ভেনমের (Anti-Venom) উপযুক্ত ডোজ তাঁর শরীরে প্রয়োগ করা। অ্যান্টি-ভেনম ছাড়া প্রাণঘাতী বিষধর সাপের বিষ থেকে বাঁচার আর কোনও উপায় নেই। এই তথ্য সরকারিভাবেও মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার করা হয়। এমনকি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে সাপের কামড়ের চিকিৎসা করা হয়। তবু এখনও সচেতনতার অভাব মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।
শুধু মানুষ নয় সাপুড়েদের অত্যাচার চলে নিরীহ বন্যপ্রাণীগুলোর ওপরও। তারা প্রায়শই সাপ ধরে তাদের বিষদাঁত ও বিষগ্রন্থীগুলি কেটে দেন। এর ফলে ওই সাপটি বিষ প্রয়োগে অক্ষম হয়ে যায়। কিন্তু এর প্রভাব ওই প্রাণীগুলির শরীরে মারাত্মকভাবে পড়ে। সাপের বিষ শুধু তাদের আত্মরক্ষার জন্য নয়, এটি তাদের খাবার হজম করারও মূল উপাদান। বিষ গ্রন্থি কেটে দিলে তাদের শরীরে বিষ উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে যায়, এর ফলে খাবার হজম না করতে পেরে সাপগুলি কিছুদিনের মধ্যেই মরে যায়। সাপুড়েরা তখন আরেকটি সাপ ধরে এনে একই কাজ করেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও বন্যপ্রাণ আইনের তোয়াক্কা না করে এখনও অনেক জায়গায় চলছে এই অসাধু ব্যবসা। এরজন্য সচেতনতামূলক প্রচার করেন অনেক পরিবেশবিদ। বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে সাপ সম্পর্কে অজ্ঞানতা দূর করতে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়।