সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় চা চাষিকে অপহরণ বাংলাদেশী দুষ্কৃতীদের, উত্তপ্ত রাজগঞ্জ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় কৃষককে অপহরণ বাংলাদেশীদের। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ (Rajganj) ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুকুরজান এলাকায়। নিপীড়িত ওই চা চাষির নাম দীপঙ্কর গোপ। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। ইতিমধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করতে তৎপর হয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। পাশাপাশি ওপার বাংলার বিজিবির সাথে মিটিং হবে বলেও খবর। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতেই দুষ্কৃতীরা দীপঙ্করকে অপহরণ করেছে। ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতীয় কৃষককে অপহরণ বাংলাদেশিদের

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, দীপঙ্কর গোফ চাউলহাটি সীমান্ত গ্রামের তসরপাড়ার বাসিন্দা। তবে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে তাঁর আনুমানিক ৬ বিঘা চা বাগান রয়েছে। নিত্যদিনের মতো গতকালও তিনি চা বাগানে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। তবে আচমকাই বাংলাদেশের কিছু দুষ্কৃতি তাঁর চা বাগানে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। এমনকি জোরপূর্বক তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ২০ জন বাংলাদেশী ছিল। এমনকি দীপঙ্করের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাদের। বিএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দিকে নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দীপঙ্করের বাড়িতে তাঁর বাবা, স্ত্রী এবং দুই ছেলে রয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, আগস্টের ৬ তারিখ নাগাদ চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এক বাংলাদেশী নাগরিক চাউলহাটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিএসএফ তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কার্যত সেই চোরাচালানের প্ল্যান ভেস্তে যায় তাদের। সেই কারণেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে ওপার বাংলার দুষ্কৃতীরা।

আরও পড়ুন: সোনা আকাশ ছুঁলেও কমল রুপোর দাম! আজকের রেট

এ বিষয়ে অপহৃত কৃষকের বাবা জানান, “আমার ছেলে সকাল বেলায় বাগানে কাজ করতে গিয়েছিল। তবে সেখান থেকেই তাঁকে বাংলাদেশীরা ধরে নিয়ে যায়। ওই দলে প্রায় ২০ জন ছিল। কয়েকদিন আগে বিএসএফের হাতে ধরা পড়া বাংলাদেশী নাগরিকের বদলা নিতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।” বিএসএফের কাছে ছেলেকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বর্তমানে দীপঙ্কর বাংলাদেশের বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। তাঁকে দেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতের নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনী।

Leave a Comment