হবে বিপুল কর্মসংস্থান, ভারতে আরও ৪৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা অ্যামাজনের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতে নিজেদের ব্যবসা আরও শক্তিশালী করতে বিরাট বিনিয়োগের ঘোষণা (Amazon Invest in India) করল বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় এবং বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা অ্যামাজন। সংস্থার সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। আর এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হবে ই-কমার্স ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ক্লাউড প্রযুক্তির পরিকাঠামো উন্নয়ন করা।

ভারতে বিনিয়োগের ঘোষণায় অ্যামাজনের

অ্যামাজনের সিইও জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে ভারতে এআই এবং ক্লাউড পরিকাঠামো তৈরির জন্য আরও ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। যার ফলে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই এবং ক্লাউড ক্ষেত্রে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এমনকি সংস্থার লক্ষ্য হল ভারতে আরও শক্তিশালী ডেটা সেন্টার তৈরি করা, যাতে স্টার্টআপ সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি উন্নত এআই পরিষেবা ও ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।

এদিকে অ্যামাজনের ওয়েব সার্ভিসের মাধ্যমে মুম্বাই এবং হায়দ্রাবাদে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলে জানা গিয়েছে। যার ফলে ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি উন্নত এআই চিপ প্রযুক্তি, নিরাপদ ক্লাউড পরিষেবা, দ্রুত ডেটা প্রসেসিং সুবিধা এবং নতুন প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে সংস্থার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দাঁড়াবে। এমনকি অ্যান্ডি জ্যাসি বলেছেন, ভারত আমাজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ই-কমার্স, এআই ক্লাউড এবং বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে সংস্থার ব্যবসা দ্রুত বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সমর্থন করে অ্যামাজন দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।

আরও পড়ুন: নতুন সরকার আসতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে তোরজোড়, বন্যার আগেই শুরু কাজ

পাশাপাশি অ্যামাজনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে ব্যবসা শুরু করার পর সংস্থাটিকে আনুমানিক ১.২ কোটি ছোট ব্যবসাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এনেছে। আর ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ই-কমার্স রফতানি সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৮ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র ভারতে। আর ১ কোটির বেশি ভারতীয়কে ক্লাউড প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তবে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে যে কর্মসংস্থান আরও বাড়বে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment