প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভুয়ো চিকিৎসক (Fake Doctors) রুখতে এবার আরও কড়াকড়ি হল প্রশাসন। রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলিতে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন (Doctor Registration Rules), যোগ্যতা যাচাই না করে পদক্ষেপ নয় বলে স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর (West Bengal Health Department)। বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসক (Fake Doctors In West Bengal) নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। গ্রেফতারির সংখ্যাও নেহাত কম নয়, যার ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল স্বাস্থ্য পরিষেবা। তাই এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে ভুয়ো চিকিৎসক ধরতে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজ্যের ভুয়ো চিকিৎসক রুখতে কড়াকড়ি সরকার
সম্প্রতি ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত একটি মামলায় কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার তা জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এরপরেই ২ অক্টোবরের মধ্যে হাসপাতালগুলির থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল স্বাস্থ্য ভবন। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সমস্ত হাসপাতালগুলির কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা স্বপন সোরেনের স্বাক্ষর রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমে ভুয়ো চিকিৎসক ধরতে মূলত ৪টি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
চার নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্য দপ্তরের
স্বাস্থ্যদপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় প্রথমেই জানানো হয়েছিল যে বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমে ভুয়ো চিকিৎসক ধরতে মূলত ৪টি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। যেখানেই প্রথমেই বলা হয়েছে বেসরকারি নার্সিংহোম কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে হবে ২০১৭ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট (রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি) রুলসের ৭(৪) নম্বর বিধি অনুযায়ী। চিকিৎসকদের লাইসেন্স নিয়েও কড়াকড়ি করতে হবে। আসলে বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন ছাড়াই অনেকে নিজেদের চিকিৎসক বলে দাবি করছেন। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন। এই প্রবণতা ঠেকাতে সমস্ত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে সেবা সেতু ক্যাম্পে ভাঙচুর মহিলাদের, ক্যানিং থেকে বার্তা সরকারকে!
কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা
নির্দেশিকায় স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তির পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রেজিস্ট্রেশন বা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অধিকার নিয়ে সন্দেহ হলে অবিলম্বে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। যদি অনুমোদন ছাড়া ভুয়ো পরিচয়ে চিকিৎসা করছেন, এমন কাউকে চিহ্নিত করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। কঠিন শাস্তিও ভোগ করতে হতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম।
রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের তরফে সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, “আমাদের সদস্যদের মাধ্যমে নৈতিক চিকিৎসা-চর্চা বজায় রাখা ও তা উৎসাহিত করার জন্য আমরা সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে কোনও ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার ঘটনা চিহ্নিত করতে সরকারকেও আমরা সহযোগিতা করব।” এখন দেখার স্বাস্থ্য দপ্তরের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়।