প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রায় ১৩ ঘণ্টা পরে মিলল স্বস্তি, রাতভর উদ্বেগের পর খনি গর্ভ থেকে উদ্ধার করা হল ১২ জন বিপন্ন শ্রমিককে। গতকাল পাণ্ডবেশ্বরের (Pandaveswar) কুমারডিহি কোলিয়ারিতে শ্রমিকরা কাজ সেরে উপরে ওঠার সময় প্রায় ২০০ ফুট নীচে আচমকা আটকে যায় শ্রমিকরা। তারপরেই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শেষে বহু চেষ্টার পর আজ ভোরে তাঁদের উদ্ধার (Pandaveswar Coal Mine Rescue) করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আটকে পড়েছিল ১২ জন শ্রমিক
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, সোমবার, পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত বাঙ্কোলা এরিয়ার কুমারডিহি A কোলিয়ারিতে অন্যান্য দিনের মত কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। শ্রমিকরা নীচে নেমে কাজ করছিলেন। কিন্তু সন্ধের পর খবর আসে, ডুলি করে উপরে ওঠার সময় সেটি আটকে যায় এবং ১২ জন শ্রমিক আটকে পরে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে খনি কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘক্ষণ ধরে শ্রমিকরা আটকে থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। ফলে প্রশ্নের মুখে খনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ। গতকাল থেকেই বিধায়ক জীতেন্দ্র তিওয়ারি ঘটনাস্থলেই ছিলেন, শেষে মিলল স্বস্তি।
কী বলছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি?
জানা গিয়েছে, রাতভর অভিযানের চেষ্টায় প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর আজ, মঙ্গলবার ভোরে আটকে থাকা ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেই মুহূর্তের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, “এই উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতার জন্য আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, ECL কর্তৃপক্ষ, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় যুবকদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।”
আরও পড়ুন: বারুইপুরের পর গাইঘাটা, নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে নিকেশ অভিযুক্ত
গতকাল, ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “আমাদের প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, লিফটের টেকনিক্যাল ফলট। ওঁদের সঙ্গে কমিউনিকেশন, ভেন্টিলেশন ঠিকঠাক আছে। ফল্ট সাড়ানো হচ্ছে। আমি প্রার্থনা করি, তাঁরা যেন দ্রুত সুস্থভাবে ফিরে আসেন।” শেষে ১৩ ঘণ্টা পর স্বস্তি মিলতেই শ্রমিকদের পরিবারে স্বস্তির আনন্দ দেখা গিয়েছে।