৪১ দেশের প্রতিযোগীদের টেক্কা, সোনা ও ব্রোঞ্জ জিতে ভারতকে গর্বিত করল খড়গপুরের আরণ

অনন্যা সরকার, পশ্চিম মেদিনীপুর: বাংলার কিশোরের ঝুলিতে এল আন্তর্জাতিক সম্মান। খড়গপুরের দশম শ্রেণীর ছাত্র আরণ মাইতি আন্তর্জাতিক স্তরের মেধা প্রদর্শনের মঞ্চে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। সে তিনটি বিভাগের মধ্যে দুটিতেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। একটিতে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক এবং অন্যটিতে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে। সম্প্রতি ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আর্থ  সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (International Earth Science Olympiad) আরণের এই সাফল্য শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। ইতালির অলিম্পিয়াড শেষ করে দেশে ফেরার পর, দিল্লির পৃথ্বী ভবনে কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রানা আরণকে সংবর্ধনা জানান। এবছরের অলিম্পিয়াডে ভারতীয় প্রতিনিধিরা মোট চারটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে।

অলিম্পিয়াডে বাংলার ছেলের অভূতপূর্ব সাফল্য

২০ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল আর্থ  সায়েন্স অলিম্পিয়াডে ৪১টি দেশের ১৮ বছরের কম বয়সী নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শোনা যাচ্ছে, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে ভারত থেকে প্রায় ১৮,০০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে থেকেই নির্দিষ্ট মানদন্ডের ভিত্তিতে শীর্ষ ২৫ জন শিক্ষার্থীকে ভাদোদরার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। সেই দলটি থেকে আবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ৪ জন মেধাবী পড়ুয়াকে বেছে নেওয়া হয়। আরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মেধা মূলত তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়, এগুলি হল – আর্থ সিস্টেম প্রজেক্ট ও ইন্টারন্যাশনাল টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন এবং ১০০ নম্বরের একটি লিখিত ও  প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা। আর্থ সিস্টেম প্রজেক্টের জন্য আরণের বিষয় ছিল ‘ গ্লেসিয়ার রিট্রিটের জলবায়ুগত ও শক্তিগত প্রতিক্রিয়া’। এই বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে আরণ গোল্ড মেডেল জিতে নিয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশনের বিষয় ছিল ইতালির মন্ট দে লা স্যাক্সে ভূমিধস সমীক্ষা। যেখানে আরণ তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়েছে।

আরও পড়ুন: হাতির গলায় আটকে ট্রাক্টরের টায়ার! ভাইরাল ভিডিও দেখে চোখে জল সবার

আরণের বাবা সোমনাথ মাইতি আইআইটি খড়গপুরে (IIT Kharagpur) কর্মরত। স্বাভাবিকভাবেই ছেলের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত বাবা ও মা কাবেরী গঙ্গোপাধ্যায়। মা জানিয়েছেন যে, আরণকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে যাবেন তাঁরা। আরণ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসে থাকে। সেখানকার ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্র সে।

আরও পড়ুন: ১০০% বিদ্যুতায়িত ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক, বড় মাইলফলক অর্জন দক্ষিণ রেলের

ছোট থেকেই আরণ নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়ে চর্চা করতেও ভালবাসে। এই আগ্রহকে লালন করার জন্য সে অল্প বয়স থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কোনও বিষয় পুরোপুরি না বোঝা পর্যন্ত সে তার বাবা-মা এবং শিক্ষকদের কাছে ক্রমাগত প্রশ্ন করে। তার বাবার মতে, বিজ্ঞানের প্রতি এই ভালোবাসা এবং কঠোর পরিশ্রমই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্য এনে দিয়েছে আরণকে। স্কুলের শিক্ষক থেকে সহপাঠী – সবাই এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষও খুশি যে, তাদের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ছেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্য অর্জন করেছে।

Leave a Comment