৪ বছর আগেই তৈরি, জাতীয় সড়কের উপর হুরমুরিয়ে ভেঙে পড়ল রেল ব্রিজের একাংশ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রবিবার বিকালে অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল মধ্যপ্রদেশ। হ্যাঁ, জবলপুর-ভোপাল জাতীয় সড়ক ৪৫ এর উপর শাহপুরা সংলগ্ন একটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজের একটি অংশ হঠাৎ করেই ধসে পড়ে (Madhya Pradesh Rail Bridge Collapse)। এই ওভারব্রিজটি ৪ বছর আগেই তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঘটে এই ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বিকল্প রুটে গাড়ি ঘোরানো হয়। তবে সুখবর এই যে, এই ঘটনায় কোনওরকম হতাহতের খবর মেলেনি।

তিন মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দুর্ঘটনা

প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর মাসে একই সেতুর দ্বিতীয় লেনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময়ও এক লেন বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে যান চলাচল করানো হচ্ছিল। আর ওই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতি এবং পুনঃনির্মাণের কাজ চলছিল। এবার যে অংশটি ভেঙে পড়েছে সেটি নির্মীয়মান অংশ বলেই খবর। তবে নতুন করে ধস নামার পর নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা সেতুটিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পর সেতুটির এক লেন দিয়ে যান চলাচল হচ্ছিল। আর অন্য লেনেই চলছিল সংস্কারের কাজ। তবে কাজ চলাকালীন হঠাৎ করে আরেকটি অংশে ফাটল ধরে। মূলত কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা যায়, আর সেটি আংশিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে ধস নামা অংশের নিচ দিয়ে প্রায় ৫০ মিটার রেললাইন রয়েছে বলে খবর। প্রশাসনের মতে, যদি ওই ভাঙা অংশ সরাসরি রেললাইনের উপরে পড়ত এবং ঠিক সেই সময় কোনও ট্রেন চলে আসতো, তাহলে বিরাট কোনও রেল দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সেই কারণেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে রেল কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য মোবাইল ব্যান করছে রাজ্য সরকার

এদিকে এই ঘটনায় জবলপুর ও ভোপালের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। হালকা যানবাহন শাহপুরা শহরের মধ্য দিয়ে অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আর ভারী যান চলাচলে সম্পূর্ণরূপে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীরা এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছেন। তবে বেশ কয়েকটি সূত্র মারফৎ খবর, টোল প্লাজাগুলিতে সাময়িকভাবে টোল না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন চালকের অভিযোগ, বাস্তবে এখনও টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, এই ঘটনার পর এনএইচএআই জবলপুর প্রকল্প পরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট সেতুটি এনএইচএআই-এর আওতায় নয়। তাদের দাবি, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল মধ্যপ্রদেশ রোড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের হাতে।

Leave a Comment