সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ (Ghaziabad) জেলার লোনি এলাকায় এক ইউটিউবারের উপর দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় এবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অলি গার্ডেন কলোনিতে নিজের অফিসের মধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ বছর বয়সী সেলিম নামের ওই ব্যক্তি। এমনকি দুষ্কৃতীরা তাঁর গলা কেটে এবং পেটে একাধিকবার ছুরি মেরে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে তাঁকে দিল্লির এক নামিদামি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা দাবি করছে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার দিনের বেলা বাইকে করে কয়েকজন হামলাকারী ওই অফিসে আচমকা ঢুকে পড়ে। তারপর আক্রমণ চালিয়ে তাঁর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ এবং সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর অভিযুক্তকে সনাক্ত করতে তল্লাশি শুরু করেছে প্রশাসন। লোনির এসিপি এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা নাকি অন্য কারণ কাজ করছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
गाजियाबाद में यूट्यूबर सलीम वास्तिक को देखने हॉस्पिटल जा रहे यति नरसिंहानंद गिरी को पुलिस ने मंदिर में ही रोका। सलीम पर कल जानलेवा हमला हुआ है। हालत बेहद गंभीर है। pic.twitter.com/7FWyhAv5tW
— sanju tiger (@sanjutiger00) February 28, 2026
কে এই সেলিম?
জেনে রাখা ভালো, সেলিম ‘Salim Wastik’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতেন। আর সেখানে তাঁর প্রায় ২৮ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। নিজেকে এক্স মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েই তিনি বিভিন্ন ভিডিওতে ধর্মীয় অনুশাসন আর সমাজের কুসংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে মত প্রকাশ করে ভিডিও বানাতেন। আর তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সংস্কার এবং আত্ম সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়। এইসব মন্তব্যের জেরে তিনি আগেও হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ তৃণমূলের ‘বাংলাদেশি’ পঞ্চায়েত প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের
তবে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে জানা যাচ্ছে যে, তাঁর বক্তব্য এবং অনলাইন কার্যকলাপের জেরেই হয়তো তাঁর উপর হামলা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে আর স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।