উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান, জাপানের ঘোষণায় প্রভাবিত হবে চিন-বাংলাদেশ

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তর-পূর্ব ভারতের (Northeast India) অর্থনৈতিক আর কৌশলগত উন্নয়নে এবার নতুন সম্ভবতার কথা জানাল জাপান। সম্প্রতি শিলং-এ অনুষ্ঠিত বৈদেশিক নীতি সংলাপে জাপানের বিদেশ মন্ত্রী হোরি ইওয়া উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যে নতুন প্রভাব পড়তে পারে। আর ভারতের কূটনৈতিক অবস্থাও বেশ শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য খাতে আসবে আমূল বদল।

উত্তর-পূর্ব ভারতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

শিলং-এ অনুষ্ঠিত ইন্দো-জাপান ইন্টেলেকচুয়াল কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হোরি ইওয়া বলেছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, যদি এই অঞ্চলকে বাংলাদেশ আর নেপালের অর্থনৈতিক গ্রিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া যায়, তাহলে বাণিজ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আর জাপান উত্তর-পূর্ব ভারতকে বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার অবকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। এমনকি এই অঞ্চল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দখল করে রেখেছে বলে দাবি তাঁর।

প্রভাব পড়বে চিন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উন্নয়ন পরিকল্পনা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চিন এবং বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ অনেক সময় বাংলাদেশের সীমান্তের উপরে নির্ভরশীল থাকে। আর সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ভারত যে এই অঞ্চলের জন্য বিকল্প অর্থনৈতিক এবং যোগাযোগের পথ খুঁজছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়ুন: এবার পেনশনভোগীদের সুখবর দিল নবান্ন, অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা টাকা

জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহযোগিতা

প্রসঙ্গত, জাপান সরকার শুধুমাত্র অর্থনৈতিক অবকাঠামো নয়, বরং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আর সবুজ শক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেছে। আর নতুন সরকারের আয়তায় টোকিও এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে মানুষের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি জাপান এবং বাংলাদেশ একটি অর্থনৈতিক অংশদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। যার মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা বাড়বে। আর এই চুক্তি বাংলাদেশে ধীরে ধীরে স্টিল এবং অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক কমাবে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে জাপান টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পণ্যে দ্রুত শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখার ভবিষ্যতে কী হয়।

Leave a Comment