যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তার আগেই বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই যুবসাথী (Yuba Sathi Scheme) নিয়ে ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বরাদ্দ ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতার টাকা ১ এপ্রিল নয়, আজ, শনিবার, ৭ মার্চ থেকেই উপভোক্তাদের দেওয়া হবে টাকা। কিন্তু প্রকল্পের জন্য এই টাকা দেওয়ার চক্করে এবার সরকারি কোষাগারে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। একধাক্কায় খরচ হতে চলেছে অন্তত ১২৬০ কোটি টাকা!

চলতি মাসেই ১২৬০ কোটি টাকা খরচ

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চলতি বছর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট মোতাবেক সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ব্লক স্তরে আয়োজিত অফলাইন শিবিরে প্রায় ৬৫ লক্ষ এবং অনলাইন পোর্টালে প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছে। আগে জানানো হয়েছিল ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে কিন্তু আচমকা দিন বদলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতেই চলতি মাসে ১২৬০ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে অনুদানের খরচ সামলাতে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ এই তিন মাসে সম্ভাব্য ধারের পরিমাণ পৌঁছতে পারে ৪৬ হাজার কোটি টাকায়।

চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল RBI

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্য সরকার প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করার প্রস্তাব দিয়েছে যা ত্রৈমাসিকে সর্বাধিক। এছাড়াও চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৮ হাজার কোটি টাকা ধার করার কথা জানিয়েছিল রাজ্য। ফলে এই তিন মাসের জন্য আরও ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করতে হলে চলতি আর্থিক বছরেই ধারের পরিমাণ হবে ১.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। যা নিয়ে চিন্তিত সকলে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে কেন ১ এপ্রিল থেকে ভাতা দেওয়ার কথা ছিল? জানা গিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আর্থিক বছর শুরু হবে। তখন থেকে ভাতা চালু করলে ওই বছরের বাজেট থেকে খরচ করা যেত। কিন্তু এখন থেকেই তা চালু হওয়ায় প্রথম মাসের খরচটা চলতি আর্থিক বছরেই ঢুকে যাবে। কিন্তু ভোটের আগে হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়তো জরুরি বলেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল সরকার।

কোষাগার নিয়ে বাড়ছে বিরোধীদের কটাক্ষ

দিনের পর দিন রাজ্যের কোষাগারের বেহাল অবস্থা নিয়ে চুপ থাকছে না বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মমতার এই প্রকল্প অনুদানের আচমকা নেওয়া সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যকে দেউলিয়া করছে এই সরকার। যুবসাথী যাঁরা নেবেন, তাঁরাও জানেন, এই সরকার তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে। ফলে ভাতা নিলেও এই সরকারকে বিসর্জন দেবেন তাঁরাই।” অন্যদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ‘ক্যাশ ফর ভোট’ মডেলের চক্করে রাজ্যের মানুষের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চাপছে। আর তার দায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।’’

আরও পড়ুন: ভারত না নিউজিল্যান্ড, T20 বিশ্বকাপে কার ক্ষমতা বেশি? পরিসংখ্যান দেখলে ভয় পাবেন!

বিরোধীদের মন্তব্য মানেনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যের কোষাগারে চাপ ও ঋণের হাল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া ছেড়ে দিতে বলুন।” প্রসঙ্গত, গত অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী ছাড়াও খরচসাপেক্ষ একাধিক ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২.৪২ কোটি করা হয়েছে এবং মাসিক ভাতাও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। খেতমজুরদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আগের খরচের বহরের উপর আরও বোঝা চাপানো হয়েছে।

Leave a Comment