সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন বাড়ছে উদ্বেগ। তবে তারই মধ্যে উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) ঘটল চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। একটি ট্রাক ভর্তি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার উধাও (LPG Cylinder Theft) হয়ে গেল যা নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, ওই ট্রাকটিতে মোট ৫২৪টি ভর্তি এলপিজি সিলিন্ডার ছিল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাঁসির সিপ্রি বাজার থানা এলাকায়। ট্রাক মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই অজ্ঞাত পরিচয়ের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
কীভাবে ঘটল এই চুরি?
আসলে ওই ট্রাকের মালিক নীরজ আগরওয়ালের অভিযোগ, ট্রাকটি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের কারারি প্ল্যান্টের সঙ্গে যুক্ত। গত ২ মার্চ ওই প্ল্যান্ট থেকে ৫২৪টি ভরা গ্যাস সিলিন্ডার ট্রাকে তোলা হয়েছিল। তারপর সেগুলি গাজনার পাঠানোর কথা ছিল। তবে হোলি উৎসবের কারণে ট্রাক চালক রাজকুমার সাময়িকভাবে ট্র্যাকটিকে প্ল্যান্টের বাইরে পার্ক করে রেখে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন পর অর্থাৎ ৬ মার্চ খবর আসে যে, ট্র্যাকটি ঝাঁসির বরাগাঁও এলাকার হাইওয়ের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এমতাবস্থায় ট্রাক মালিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন যে, ট্রাকটি থাকলেও সমস্ত গ্যাস সিলিন্ডার উধাও। আর শুধু তাই নয়, ট্রাকের জিপিএস সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়া হয়েছে যাতে গাড়ির অবস্থান কোনও ভাবে ট্রাক না করা যায়। এরপর তিনি সিপ্রি বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাকটিকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু চুরি যাওয়া সিলিন্ডারগুলির কোনও হদিস নেই। আর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জয়প্রকাশ চৌবে জানিয়েছেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে আর তদন্তের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট
বলাবাহুল্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল আর গ্যাস সরবরাহের উপর বিরাট প্রভাব পড়ছে। আর এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হওয়ায় ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।