প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি নিতে এখনও চর্চার শিখরে রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। রাতারাতি চাকরিহারা হয়ে পড়েছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী। এখন পুনরায় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাঁদের। স্বাভাবিকভাবেই রেশ কাটেনি সেই আতঙ্কের। এবার কলেজ নিয়োগেও দেখা যাচ্ছে অস্বচ্ছতা। গত ফেব্রুয়ারিতে কলেজ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি (College Teacher Recruitment Notification) জারি করেছে কমিশন। আর সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন আবেদনকারীদের একাংশ। অভিযোগ UGC র অনেক নিয়ম নাকি মানা হয়নি।
কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা
জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারপোষিত কলেজগুলির জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি UGC নিয়ম মানছে না। প্রথমত, কত শূন্যপদে নিয়োগ হবে তার কোনও তালিকা দেওয়া হয়নি। এক একটি শূন্যপদের জন্য কতজন আবেদনকারীকে ডাকা হবে, কেন নিয়োগ সে সব বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। আর তাতেই চিন্তা বাড়ছে আবেদনকারী প্রার্থীদের। তাঁদের একাংশের অভিযোগ অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠতে পারে ভবিষ্যতে।
মানা হচ্ছে না একাধিক নিয়ম
ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী কলেজে নিয়োগের জন্য বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকে না। কিন্তু কলেজ সার্ভিস কমিশন বয়ঃসীমা ৪০ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অথচ, যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা নেট বা সেট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বয়ঃসীমা নেই। এখানেই শেষ নয়, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর ডিভিশন’-এর উল্লেখ করা নেই। এদিকে UGC-র নিয়ম অনুযায়ী, এই ভাগের উল্লেখ থাকা একান্ত প্রয়োজন। এইরূপ একের পর এক ত্রুটি থাকায় প্রার্থীদের মাঝপথে চাকরি চলে যাওয়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই সেই ভয় নিয়ে তাঁরা ই-মেল করে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়োগের ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে
শেষ আপডেট অনুযায়ী, নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে ই-মেল করে তাঁরা বিষয়গুলি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও জবাব আসেনি। যদিও কমিশনের তরফে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সূত্রের খবর নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “যা হয়েছে তা ইউজিসি-র বিধি অনুযায়ী হয়েছে। এর আগেও শূন্যপদ প্রকাশ না করেই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সকল আবেদনকারীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়।” আসলে ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ায় সকলেই বেশ আতঙ্কিত তাই এবার সেই ছায়া যাতে কলেজ নিয়োগের ক্ষেত্রে না পরে তাই এই ই-মেল।