সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভ্রমণ করতে গিয়ে ধর্মীয় স্থানে চুরির অভিযোগ। তাও অন্য কোনও রাজ্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তারপর অনুতাপ প্রকাশ করতেই করে দেওয়া হল ক্ষমা। এমনই ঘটনা ঘটল অরুণাচল (Arunachal Pradesh) প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র তাওয়াং মঠে (Tawang Monastery)। কী কী চুরি করেছিল ওই অভিযুক্ত এবং কেনই বা তাঁকে ক্ষমা করা হল?
ঘটনাটি কী?
দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, গত ৩ মার্চ বিকেলবেলা তাওয়াং মঠ চত্বর সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েকটি ধর্মীয় সামগ্রী চুরি হয়। যার মধ্যে ছিল একটি পিতলের বৌদ্ধদেবের মূর্তি, একজোড়া ধর্মীয় ঝংকার, একটি ঘন্টা আর দুটি ধাতব ব্যাটার ল্যাম্প। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এমনকি পুলিশ সূত্রে খবর, মঠ সংলগ্ন জায়ান্ট বুদ্ধ স্ট্যাচুপার্কের সিসিটিভি ফুটেজে ওই চুরির গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে। আর সেই ফুটেজ দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্তে থাকা পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর স্ত্রী ঘটনার আগের দিন এখানে বেড়াতে এসেছিলেন।
জানা যাচ্ছে, ৪ মার্চ দুপুরবেলা এক হোমস্টে থেকে ওই পর্যটককে আটক করে পুলিশ। আর তল্লাশি চালিয়ে চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পুলিশের আনুমানিক অনুমান, চুরি হওয়া জিনিসগুলির বাজার মূল্য হতে পারে ২০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, তাওয়াং মঠটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। আর ১৭০০ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই মঠটি ভারতের সবথেকে বড় বৌদ্ধমঠ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মঠ। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় জমান।
আরও পড়ুন: বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন
মামলা ছাড়াই করে দেওয়া হল ক্ষমা
তবে ওই চুরির ঘটনা ধরা পড়তেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করে নেন এবং লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতে এরকম কাজ আর কোনও দিনই করবেন না। তিনি ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রাখার ক্ষেত্রেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর মঠ কর্তৃপক্ষ সমস্ত দিক বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাঁকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।