প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই গত সোমবার, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৪টি আসনের প্রার্থীদের নাম কয়েক দিন আগেই বিজেপি (BJP Candidate) ঘোষণা করে দিয়েছিল। এরপর বাকি ১৫০টি আসনের তালিকা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। অবশেষে গতকাল, বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের তালিকা। কিন্তু সেই তালিকায় ছিল না পানিহাটির (Panihati) নাম। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিহাটি থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে নিজেই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। তাতেই নাকি তৈরি হয়েছে সমস্যা।
ঘোষণা হয়নি পানিহাটির প্রার্থীর নাম
শুরু থেকেই আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার এত দিন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই সকলের ধারণা ছিল পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম থাকবে দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্যাতিতার মা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। এদিকে নির্যাতিতা ও তাঁর আত্মীয়দের নাম প্রকাশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই নাকি পানিহাটিতে প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না পদ্ম শিবির।
প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের
নির্যাতিতার মায়ের কথায়, ‘‘আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ কিন্তু তৈরি হল আইনি জট। আসলে ২০১৮-র নিপুণ সাক্সেনা কেসে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় মিডিয়ায় প্রকাশ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরও পড়ুন: গভীর সঙ্কটে HDFC ব্যাঙ্ক? এবার মুখ খুলল RBI
পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর ২১ আগস্ট অভয়ার নাম-পরিচয় প্রকাশ বন্ধের জন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণের শিকার কোনও মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, এমন সব ছবি–ভিডিয়ো ইত্যাদি সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা হবে কী ভাবে সেই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে আসতে চাই। আমরা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে আদালতে দু’বার হলফনামা দিয়েছি। কিন্তু তা আদালত খারিজ করে দিয়েছে।’ এখন দেখার কীভাবে এই আইনি জট কাটে।