হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার!

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গে নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এমনকি ১১ জেলার নতুন জেলাশাসকও নিয়োগ করা হয়েছিল। যা নিয়ে আইনজীবী অর্ক কুমার নাগের জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। আর এই আবহে আজ হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এই মামলার শুনানি শুরু হলে রাজ্যের মামলা খারিজ করে দেয় বিচারপতির বেঞ্চ। অর্থাৎ এই মামলায় রাজ্যের IAS-IPS আধিকারিকদের রদ বদলে কোনও হস্তক্ষেপই করল না কলকাতা হাইকোর্ট।

রাজ্যের মামলা খারিজ হাইকোর্টের

রিপোর্ট মোতাবেক আজ, মঙ্গলবার, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে আমলাদের বদলি সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলা উঠলে জানানো হয়, আবেদনকারী একজন কর্মরত আইনজীবী। শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত অভিযোগ থাকার কথা নয়, যদি না সেই বদলির ফলে জনস্বার্থে কোনও ক্ষতি হয়। যদি অফিসারদের নির্বাচন পর্যন্ত বদলি করা হয়, তা হলে বলা যায় না যে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এই মামলায় আবেদনকারী আমলা বদলিকরণে যে কোনও আইনভঙ্গ হয়েছে তার প্রমাণ দেখায়নি।

আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন কর্মকর্তারা

জনস্বার্থ মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অনেক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলে তা ইচ্ছাকৃত, স্বেচ্ছাচারী বা বিদ্বেষমূলক বলা যায় না। কারণ সারা দেশে একই ধরনের বদলি হয়েছে। একমাত্র বেআইনি বা ক্ষমতার বাইরে কিছু হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। এছাড়াও আইনজীবী অর্ক কুমার নাগের জনস্বার্থ মামলায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বদলি চাকরির স্বাভাবিক অংশ। যদি কোনও কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তিনি নিজে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিছু রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হলেও কোনও প্রমাণও দেওয়া হয়নি। তাই বিদ্বেষের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

IAS IPS বদলি নিয়ে কমিশনের পক্ষে আদালত

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন অফিসার বদল করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর তাতেই ক্ষুব্ধ সরকার। শেষে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে, ওই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের হয়েছিল এই জনস্বার্থ মামলা। কিন্তু সেই সকল দাবি মানল না আদালত। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টও IAS IPS বদলি নিয়ে মত দিয়েছিল যে, নির্বাচনের সময় অফিসারদের ট্রান্সফার করতে গেলে কমিশন কারণ দেখাতে বাধ্য নয়। এমনকি এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়েও বলা হয়েছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ট্রান্সফার করাও সেই ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।

আরও পড়ুন: রাহুলের মৃত্যুর মাঝেই টলিউডে ফের শোকের ছায়া, প্রয়াত তরুণ অভিনেতা প্রণব

প্রসঙ্গত, IAS-IPS-দের মামলার এই রায় দেখার পরে মামলাকারীর আইনজীবী OC, BDO-দের বদলি মামলার প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের ২৬৭ জন প্রশাসনিক আধিকারিককে একই দিনে বদলি নিয়ে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। আজ সেই মামলার শুনানির কথা ছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলার আবেদনও খারিজ করে দেয়।

Leave a Comment