সৌভিক মুখার্জী, শ্যামপুর: রাজ্যের হাসপাতালগুলির করুণ দশা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কোথাও বেড নেই, কোথাও পর্যাপ্ত পানীয় জল নেই, কোথাও বসার জায়গা নেই। একের পর এক দুর্দশা লেগেই রয়েছে। এরই মধ্যে হাওড়ার শ্যামপুর বিধানসভার ঝুমঝুমি হাসপাতালকে (Jhumjhumi Hospital) নিয়ে উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে এবার শ্যামপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) নিজেই সরব হলেন। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে একজন রিকশাচালক হাসপাতালে রোগীদের সেলাই করা থেকে শুরু করে গর্ভবতী মহিলাদের প্রসবের সময় চিকিৎসকদের সহায়তার কাজ করছেন।
বেহাল দশা শ্যামপুরের ঝুমঝুমি হাসপাতালের
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসক, নার্স বা প্রশিক্ষিত কোনও স্বাস্থ্যকর্মী নেই। রোগীদের অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেই কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে বাইরের লোকজনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি রিকশাচালক পর্যন্ত হাসপাতালের কাজ করছে।
শ্যামপুরের বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় এসে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, “আমি এখানে না আসলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা কতটা ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন কতটা মূল্যহীন হয়েছে, যে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রশিক্ষণহীন মানুষকে ব্যবহার করতে হচ্ছে। যদি সত্যি একজন রিকশাচালককে রোগীদের সেলাই করতে হয় বা প্রসূতি বিভাগের কাজে সাহায্য করতে হয়, তাহলে তা শুধুমাত্র উদ্বেগের কথা নয়, বরং বিপজ্জনকও। এর ফলে রোগীদের জীবনেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
হিরণের আরও সংযোজন, “স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? ঝুমঝুমি হাসপাতালের এই চিত্র শুধু একটা হাসপাতালের ছবি নয়, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর সংকট। শ্যামপুরের মানুষজন উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাদের নিরাপদ চিকিৎসা, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মী পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরী। শ্যামপুরের মানুষের জন্য একটি আধুনিক এবং উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।”
ঝুমঝুমি হাসপাতালের অবস্থা একবার দেখুন।
এখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে একজন রিকশাচালক হাসপাতালের রোগীদের সেলাই করছেন, এমনকি গর্ভবতী মায়েদের প্রসবের সময় ডাক্তারদের সহায়তাও করছেন বলে স্থানীয় মানুষ অভিযোগ করছেন।
আমি শ্যামপুরে না এলে হয়তো জানতেই পারতাম না, পশ্চিমবঙ্গের… pic.twitter.com/F4oZ1potpi
— Dr. Hiranmoy Chattopadhyaya (Hiraan) (@hiran_chatterji) June 7, 2026
আরও পড়ুন: ডিমাতঙ্কে বাতিল তৃণমূল কাউন্সিলরদের বৈঠক! দিল্লি উড়ে গেলেন মমতা
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে। জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত পরিমাণে কর্মী নেই। রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আর চিকিৎসা পরিষেবায়ও নানারকম অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আষাঢ় পর শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের দাবি, তৎকালীন শাসকদল এই হাসপাতালকে গুরুত্বই দেয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য নূন্যতম স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের তরফ থেকে যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।