তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল, কুণাল-রাজীবদের কাঁধে দেওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লোকসভা হোক বা বিধানসভা, ২৬ এর নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress) ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতেও হাল ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে উঠে পড়ে লাগলেন তিনি। প্রবীণ নেতাদের উপর ভরসা করেই জেলা স্তরে ব্যাপক রদবদল করা হল মঙ্গলবার। জানা গিয়েছে, আর নতুন নয়, বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি এবং চেয়ারম্যান পদে একাধিক অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ নেতাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হুগলি-শ্রীরামপুর কার দখলে?

উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন কুণাল ঘোষ। দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদে আনা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে, এতদিন এই দায়িত্বে ছিলেন দেবাশিস কুমার। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার চেয়ারম্যান করা হয়েছে রত্না শূরকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি হয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। কিন্তু দলের ভরাডুবির পর থেকে এই নেতা দূরত্ব বাড়িয়েছেন। এদিকে আর ভরসা রাখতে পারছেন না মমতা। তাই এই যাত্রায় প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদারকেই বেছে নিয়েছেন। তবে তিনি আপাতত ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে জেল হেফাজতে রয়েছেন।

হাওড়া পূর্ব বর্ধমান কার দায়িত্বে?

নতুন তালিকা অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেবকে এবং সভাপতি হয়েছেন কুন্তল রায়। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় পার্থ ভৌমিকের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত গুপ্ত। এছাড়াও হাওড়া সদর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বিধায়ক অরূপ রায়কে এবং তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক, প্রবীণ রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কেই পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি রাখা হয়েছে এবং সহ-সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী, বর্ষীয়ান স্বপন দেবনাথ।

Mamata Banerjee

আরও পড়ুন: ডিউটি ফাঁকি আর নয়, সরকারী চিকিৎসকদের ১১ বছরের ফাইল দ্রুত তলব স্বাস্থ্যদপ্তরের

পশ্চিম বর্ধমানেও সভাপতি রাখা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি তৃণমূলের যুব ও মহিলা সভাপতি পদে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায় ও আলিফা আহমদকে আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ছাত্র সংগঠনের প্রধান পরামর্শদাতা করা হয়েছে জয়া দত্তকে। অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৩টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে অধিকাংশই পুরনো নেতাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল যে, কঠিন সময়ে দলের পুরনো নেতাদেরই বেশি গুরুত্ব দেবে তৃণমূল।

Leave a Comment