ছাত্রকে শাসন করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা, রায়দানে বিশেষ বার্তা বিচারকের

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাত্রকে শাসন করতে গিয়ে শিক্ষক (Teacher) জড়িয়ে পড়লেন আইনি মামলায়! অভিভাবকের অভিযোগে রীতিমত কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো শিক্ষককে। ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙ্গায় (Mathabhanga)। তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল এই মামলায় আদালত কক্ষই শেষ পর্যন্ত শিক্ষকের পক্ষ নিল এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল যে শিক্ষকেরা শাসন করেন বলেই আমরা বড় জায়গায় পৌঁছতে পারি।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রের অভিভাবক গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল। মূলত ছাত্রকে কেন শাসন করা হয়েছিল সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিভাবক। এরপরই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে পুলিশ। শিক্ষককে গ্রেপ্তার করার পর গতকাল, শুক্রবার তাঁকে মাথাভাঙ্গা আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানে বিচারক শিভম মিশ্র শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিভাবকের অভিযোগপত্র দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “এই ধরনের অভিযোগ গুরু এবং শিষ্যের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শিক্ষকেরা শাসন করেন বলেই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।”

শিক্ষককে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা ছাত্র ছাত্রীদের

আদালতের তরফে জানা গিয়েছে, এই মামলায় আদালতের প্রায় সব আইনজীবী ও সরকারি আইনজীবীও শিক্ষকের পাশে দাঁড়ান। জানা গিয়েছে, বিচারক শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীকে পিআর বন্ডে মুক্তি দেন এবং তদন্তকারী অফিসারকে এই ধরনের মামলা শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এই রায় পাওয়ার পরই আদালত চত্বরের বাইরে শিক্ষকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। এবং শিক্ষক বেরোতেই ফুল দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানায় তারা। সব মিলিয়ে ছাত্রকে শাসন করা থেকে শুরু করে শিক্ষককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিয়ে সমাজে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিষেককে ঘিরে কলকাতা বিমানবন্দরে মারাত্মক বিক্ষোভ! কী ঘটেছিল এয়ারপোর্টে?

কী বলছেন শিক্ষক?

গোটা ঘটনায় শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, “ এত বছর ধরে শিক্ষকতা করছি কোনো দিনও এমন অবস্থার সম্মুখীন আমি হয়নি। বরাবরই চেষ্টা করে গেছি ছাত্র ছাত্রীদের সুশিক্ষা দেওয়ার। কিন্তু এই অভিযোগ আমাকে এতটাই হতাশা করেছিল যে কিছুদিনের মধ্যে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। তবে আজ বিচারকের রায় পেয়ে এবং পড়ুয়াদের সমর্থন পেয়ে আমি খুবই খুশি। আগামী দিনেও আমি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে যেতে চাই।”

Leave a Comment