প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)! এবার বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) বাড়িতে হানা দিল CID টিম। আজ শনিবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভবানীপুরে তৃণমূলের এই প্রবীণ বিধায়কের বাড়িতে হাজির হন। জানা গিয়েছে আধ ঘণ্টা রাজ্যের প্রাক্তন পরিষদীয় মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে জন তাঁরা। এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল বিধায়কদের সই গ্রহণ করার দিন কী কী হয়েছিল সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল।
শোভনদেবের বাড়িতে CID
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ, ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে আচমকাই রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা CID-র একটি বিশেষ টিম পৌঁছয়। মূলত বিধায়কদের ‘সই জালিয়াতি’ মামলায় তাঁর নাম জড়ানো এবং তৎকালীন রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়েই তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন আধিকারিকরা। সেখানে প্রায় টানা ৩০ মিনিট ধরে চলে এই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। এরপরই বেরিয়ে যান তাঁরা। তদন্তের বিষয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ তদন্তে ২০০ শতাংশ পূর্ণ সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত। তবে যাঁরা এই ঘটনায় অভিযোগ জানিয়েছে, আমি চাই তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক। কারণ, রেজলিউশনে স্বাক্ষরের সময় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।’’
#WATCH | #CID visits #TMC MLA Sovondeb Chattopadhyay’s residence in connection with the MLA signature forgery case.#WestBengal pic.twitter.com/jIX5b5PSD6
— Riya Majhi (@riya_reporter) June 20, 2026
ডাকা হবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও?
ইতিমধ্যে এই সই জাল কাণ্ডের ঘটনায় ভবানী ভবনে CID দফতরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কারও বাড়িতে আধিকারিকেরা গিয়েছেন, আবার কাউকে হাজিরার নোটিস ধরানো হয়েছে। গতকাল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তিনি দিল্লিতে থাকায় সেই নোটিশ কেউই গ্রহণ করতে চাননি।
আরও পড়ুন: পড়ুয়াদের জন্য রেলের টিকিটে ছাড়, স্টুডেন্ট কনসেশন নিয়ে নয়া নির্দেশিকা শিক্ষা দফতরের
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার পরেই ‘সই জালিয়াতি’ মামলা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতে থাকে। মামলার দায়ভার আপাতত সামলাচ্ছে CID। অন্যদিকে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করায় স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শোভনদেব। কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চ ওই সিদ্ধান্তে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। সেই কারণে তিনি পুনরায় হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছেন। আগামী সপ্তাহে তার শুনানি হতে পারে।