সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি একে একে রক্ষা করছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) নিয়ে মহিলাদের মনে এখন উৎকণ্ঠা তুঙ্গে। অফলাইন, অনলাইন দু’ভাবেই চলছে আবেদন। বন্ধ হয়েছে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের চালু করার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। এমনকি ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা করে পাওয়া শুরু করেছেন রাজ্যের মহিলারা। তবে এরই মধ্যে সামনে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রাজ্য সরকারের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটে (https://wcdsw.wb.gov.in/) এখনও পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) নাম দেখা যাচ্ছে। এমনকি সেখান থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে ফর্মও।
রাজ্যের সরকারি পোর্টালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম
রাজ্যের মন্ত্রিসভা বন্টনের পর নারী এবং শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীত্ব এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মালতি রাভা রায়কে। নিজের কাজও শুরু করেছেন তিনি। পাশাপাশি অফিশিয়াল পোর্টালে তাঁর নামও দেখাচ্ছে। কিন্তু সেখানেই দেখা যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অপশন, এবং সেখানে ক্লিক করলে আবেদন ফর্মও ডাউনলোড করা যাচ্ছে। পাশাপাশি কন্যাশ্রী, রূপশ্রী যোজনাও এখনও পর্যন্ত সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বিজেপি সরকার বলেছিল যে তৃণমূলের চালানো কোনও প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে যেহেতু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে বন্ধ হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারি ওয়েবসাইটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নাম দেখায় ধন্দায় ভুগছেন মহিলারা।
উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় ঘটে যাওয়া সরকারি প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির পরিসংখ্যান থেকে শিক্ষা নিয়েই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবার নতুন করে আবেদন শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে ১২ পাতার একটি আবেদন ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন দু’ভাবেই করা যাচ্ছে আবেদন। তবে সরকারি ওয়েবসাইটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম দেখতে পাওয়াতে অনেক মহিলা হয়তো ভাবছেন যে এই প্রকল্পের ফর্ম আবার ফিলাপ করে জমা দিলে হয়তো সরকারি সুবিধা মিলবে। কিন্তু আদতে এমনটা নয়। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: দেন ৩২ হাজার চাকরি মামলায় রায়, হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন তপোব্রত চক্রবর্তী
এ বিষয়ে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী মালতি রাভা রায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন যে, “আমাদের দফতরের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম ডাউনলোড হওয়া তো দূর, বরং এই প্রকল্পের নাম থাকার কোনও কথা নয়। কেন এরকমটা হচ্ছে? আমি এই বিষয়ে দফতরের সঙ্গে জরুরী ভিত্তিতে কথা বলছি আর দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”