প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ এতটাই সকলের বেড়ে গিয়েছে যে নিজের শরীরের (Health) যত্ন নিতে অনেকেই ভুলে যান। তবে দিনের পর দিন এই অবহেলা একদমই উচিত নয়। ব্যস্ততার মাঝে মানসিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া খুব জরুরি। আর তাইতো বর্তমানে অনেককেই জিম অথবা যোগ ব্যায়ামে (Yoga Vs Gym) ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে কোনটি বেশ কার্যকরী। তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।
জিমের উপকারিতা
জিম মূলত শরীরের গঠন ও শক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ কার্যকরী। ট্রেনারের নির্দেশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ব্যায়াম করলে একটি সুন্দর শারীরিক গঠন তৈরি হয়। এর ফলে একদিকে যেমন শরীরের সিমেট্রি তৈরি হয়, স্ট্যামিনা বাড়ে ঠিক তেমনই আবার ফিটনেস উন্নত হয়। অন্যদিকে যোগাসনে ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং শরীরের টোনিংয়ের উপর বিশেষ করে জোর দেওয়া হয়ে থাকে। অর্থাৎ এক কথায় কায়িক পরিশ্রম কম করে শরীর সুস্থ রাখার মোক্ষম উপায় হল যোগ ব্যায়াম।
যোগব্যায়ামের উপকারিতা
অনেক যোগব্যায়াম ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন রকমের ফিটনেস আসন শেখানো হয়। আসলে যোগব্যায়াম সমগ্র শরীরকে বাইরে থেকে এবং অভ্যন্তরীণভাবে উপকৃত করে৷ শুধু তাই নয় রোগের ঝুঁকি কমাতে বেশ সাহায্য করে৷ এর পাশাপাশি মানসিক চাপ যেমন কমে ঠিক তেমনই আবার প্রতিদিন যোগব্যায়াম অনুশীলন করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরতে সাহায্য করে৷ ডিপ ব্রিদিং মস্তিষ্ককে শান্ত করে, টেনশন কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে শুধু জিম করলে অনেক সময় ফ্লেক্সিবিলিটি কমে যেতে পারে, এমনকি শুধু যোগ ব্যায়াম করলে মাসল স্ট্রেংথ ততটা তৈরি নাও হতে পারে। তাই যদি এই দুটোকে একসঙ্গে করা যায় তাহলে মন্দ হয় না।
আরও পড়ুন: ঘন ঘন চোখ শুকিয়ে যাচ্ছে? মেনে চলুন এই ৪ ঘরোয়া টোটকা
কোনটি বেশি উপকারী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যদি কেউ জিমের পাশাপাশি প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট যোগাভ্যাস করেন, তাহলে শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি অনেক ভালো থাকে, মাসলের গুণগত মান উন্নত হয় এবং ইনজুরির ঝুঁকিও কমে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই সবশেষে বলা যায়, ব্যস্ততার মাঝে শরীর সুস্থ রাখতে এবং শারীরিক গঠন ঠিক রাখতে যোগ এবং জিম- দুটোই দরকার।