সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কালীচরণকে খুঁজে বার করলেই তারাতলা কাণ্ডের (Taratala Incident) সব রহস্য উদঘাটন হবে। গতকাল তারাতলায় ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় সরাসরি ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বলেন, “এটাই দেখুন ফিরাদ হাকিমের সই। স্ট্রাকচারে গাফিলতি থাকা সত্ত্বেও সই করেছে। নকশার গাফিলতি রয়েছে।” তবে সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে কালী নামে আরও এক ব্যক্তির কথা শোনা যায়। আর সেই কালীর সূত্র ধরে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নামও জড়িয়ে এল তারাতলা কাণ্ডে।
কে এই কালীচরণ?
গতকাল তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ইতিমধ্যে ৮ থেকে ৯ জনের। ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো নির্মাতা কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী তথা ট্রাইম্যাক্স কন্ট্রাক্টর দিবাকর ভান্ডারী সহ প্রমুখ। তবে এ নিয়ে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীচরণকে। আর কালী জানেনা এরকম কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিং কালীর অনুমোদনেই হত। কালীকে খুঁজে বার করলেই সব বেরিয়ে যাবে।”
এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে যে কে এই কালীচরণ? আসলে ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে দ্বিতীয় হয়ে ভূমি রাজস্ব দফতরে যোগদান করেছিলেন কালীচরণ। তারপর ২০০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় বসে প্রথম হন তিনি। তারপর ভূমি রাজস্ব দফতর থেকে রাজ্য পুলিশে যোগ দেন। তবে প্রশিক্ষণের সময় সেই পদ ছেড়ে আবারও ভূমি রাজস্ব দফতরে ফিরে যান কালী। এমনকি ২০১০ সালে পুরসভায় তাঁর কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুর নিগমের মেয়র হওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ক্যামাক স্ট্রিটের মাধ্যমেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরহাদ নিজের ওএসডি পদে নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুন: শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে ফিরল স্বস্তি, মাত্র ৫ দিনেই দুধিয়ায় বিকল্প ব্রিজ গড়ল ভারতীয় সেনা
ফিরহাদের আপ্তসায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এমনকি এই ঘটনায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কালীর বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের কর্মী অয়ন ঘোষ দস্তিদার কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এও শোনা যায় যে, পুরসভার অন্দরে কালীচরণ এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে কেউ সাধারণভাবে কাজ করতে পারত না। মেয়রের কাছে কোনও অভিযোগ জানাতে গেলে কালীচরণের পারমিশন নিয়েই যেতে হতো। আর তারাতলা কাণ্ডে এবার সেই কালীচরণের নাম উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর কথায়।