কল্যাণীতে মেট্রো, নবদ্বীপ ঘাট থেকে শান্তিপুর ট্রেন! রেলের কাছে একাধিক দাবি জগন্নাথ সরকারের

সহেলি মিত্র, কলকাতা: হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে একাধিক বিষয় নিয়ে আসরে নামলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar)। তিনি দেখা করলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর এবং শিয়ালদা DRM সম্মানীয় রাজীব সাক্সেনার সঙ্গে। এই বিষয়ে জগন্নাথ সরকার ফেসবুকে একটি লম্বা পোস্ট অবধি করেছেন। তিনি জানালেন দুজনের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে সে সম্পর্কে। কয়েকদিন আগেই পূর্ব রেলের সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে যাত্রীদের সুবিধার্থে আগামী দিনে আর কী কী করা সম্ভব সে বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে এরই মাঝে একগুচ্ছ দাবি নিয়ে পূর্ব রেলের দুই বড় কর্তার সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপি সাংসদ।

রেলের সঙ্গে গুরত্বপূর্ণ বৈঠক বিজেপি সাংসদের

জগন্নাথ সরকার জানান, ‘GM সম্মানীয় Milind Deoskar এবং শিয়ালদা DRM সম্মানীয় রাজীব সাক্সেনা মহোদয়ের সাথে এক সদর্থক আলোচনা করলাম বর্তমান রেলের উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে। আমি মনে করি রেলের উন্নয়ন মূলক কাজ এইভাবেই এগিয়ে চলুক এবং পাশাপাশি একটু মানবতার দিক দিয়ে ভেবে রেল যাতে এমন কোনো স্কিম আনে যার মাধ্যমে ভাড়ার বিনিময়ে রেল হকারদের জন্য স্টল নির্মাণ করে দেয় আর উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবেনা তারা আমার কথা মতো দোকান বা দখল সরিয়ে নেবে। আর ট্রেনের মধ্যে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রয় করে যে হকাররা, তাদেরকে ফাইন করা হচ্ছে এবং ট্রেনে উঠতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে ও জানালাম বিশেষ সমাধানের জন্য। তবে হ্যাঁ শুধু হকারদেরই যে দুর্দশা বা তারাই শুধু অসহায় এমনটাও নয়। বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক পুঁজি বিনিয়োগ করে নিজের জায়গায় ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক মানুষ শূন্য অবস্থায় চলে আসে; তাই তাদেরকে নিয়েও ভাবার লোক দরকার। ‘

পোস্টে তিনি আরও জানান, ‘আমার কাছে যাত্রী সুবিধা, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং পাশাপাশি হকার, সবাইকেই সমান চোখে দেখে এগোতে হবে। তাই আমার সবসময় একই দাবি ছিলো যে বহু দিন থেকে করে কম্মে খাওয়া হকারদের জন্য হকার্স কর্নার বা এমন কিছু একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।’

রেল কর্তাদের কাছে কী কী দাবি জানালেন জগন্নাথ সরকার?

১) নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত শান্তিপুর থেকে ট্রেন চালাতে হবে সমস্ত জমিজট এবং গেট নির্মাণের কাজ মিটিয়ে।
২) কম খরচে টেন্ডার দিয়ে হকারদের জন্য হকার কর্নার বানাতে হবে।
৩) কল্যাণী পর্যন্ত মেট্রো চালু করতে হবে।
৪) শান্তিপুর এবং গেদে পর্যন্ত আরও লোকাল চালাতে হবে।
৫) রানাঘাট স্টেশনকে বিশেষ রূপে নির্মাণ করতে হবে পরিকাঠামোগত দিক থেকে।

আরও পড়ুনঃ রাজস্ব ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা! তবে ভরিয়ে দেবে কেন্দ্র, বাংলার আর্থিক পূর্বাভাস SBI-র

পাইপলাইনে কী কী কাজ রয়েছে?

১) শান্তিপুর এবং দিগনগর নিকট রেল গেট নির্মাণ খুব দ্রুত অনুমোদন এবং পাশাপাশি আর একটি তারকনগর ময়ূরহাট রেল গেট নির্মাণ হবে।
২) ফুলিয়াতে দুগ্ধ শিল্প এবং ছানার ব্যবসায়ীদের জন্য হিম ঘর নির্মাণের কাজ হবে ১০ বছরের লিজ দেয়ার মাধ্যমে।
৩) যাদবপুর এবং গড়িয়াতে হকার কর্নার বানানোর এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে এবং এর ফলে রেল লাভমান হলে সমস্ত  ক্ষেত্রেই এই পলিসি আনবে রেল।
৪) শান্তিপুর এবং কৃষ্ণনগরের জন্য অফিস টাইমে AC লোকাল চালানোর জন্য নতুন রেকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৫) কল্যাণী থেকে রানাঘাট পর্যন্ত তৃতীয় লাইন এর কাজ শেষ হওয়ার পরে অনেক লোকাল এবং বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন রানাঘাট থেকে চলবে।
৬) রানাঘাট প্লাটফর্মে দুটি escalator বিশিষ্ট ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

Leave a Comment