সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের মুকুটে যুক্ত হল নয়া পালক। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারত হাইড্রোজেন প্ল্যান্টের (Hydrogen Plant) উদ্বোধন করেছে, যা থেকে বিদ্যুতের পরিবর্তে সরাসরি পারমাণবিক চুল্লির তাপ ব্যবহার করে হাইড্রোজেন উৎপাদিত হয়। সূত্রের খবর, বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়েছে তামিলনাড় কল্পাক্কামে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র। এমনকি এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র পারমাণবিক শক্তিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না, বরং সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনকেও সম্ভবপর করবে।
বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র এবার ভারতে
তামিলনাড়ুর এই পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রটি কপার-ক্লোরিন তাপ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য এটি জীবাশ্ম জ্বালানি বা অতিরিক্ত বিদ্যুতের কোনও প্রয়োজন পড়ে না। পরিবর্তে এটি একটি ফার্স্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর থেকে উচ্চ তাপমাত্রার তাপ ব্যবহার করে কাজ করে। এ বিষয়ে পারমাণবিক শক্তি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী অনীল কাকোদকর জানান, হাইড্রোজেন বিশ্বে পরিচ্ছন্ন শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা এর উৎপাদনকে বিশ্বের কাছে আরও অপরিহার্য করে তুলেছে।
কীভাবে তৈরি হবে সবুজ হাইড্রোজেন?
সাধারণভাবে, হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ কিংবা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তি সরাসরি পারমাণবিক চুল্লির তাপ ব্যবহার করবে। আর এই প্রক্রিয়াটি কার্বন নিঃসরণ দূর করবে এবং পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন উৎপাদন করবে। এমনকি এই কারণেই এটিকে পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পারমাণবিক চুল্লিগুলি প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তি একই চুল্লিতে বিদ্যুৎ এবং সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করার সুযোগ দেবে। আর ভবিষ্যতে ফুয়েল সেল, ভারী শিল্প, ইস্পাত উৎপাদন, সার শিল্প ইত্যাদি খাতে সবুজ হাইড্রোজেন ব্যবহার করা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হবে সব শ্রেণির শিক্ষকের বদলি, প্রায় চার বছর পর চালু হল উৎসশ্রী পোর্টাল
পারমাণবিক শক্তি বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্রটি ভারতের ৩ পর্যায়ের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি প্রধান মাইলফলক। এমনকি ইউরেনিয়ামের সীমিত মজুদের কারণে ১৯৫০ এর দশকে পারমাণবিক বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা দেশের অভ্যন্তরে ভারতে প্রচুর থোরিয়ামের মজুদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন। এমনকি এই শক্তিখাত দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ পরিকল্পনার জন্য যে বিরাট মাইলফলক হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।