সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির সংকট মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে ওপার বাংলায় (Bangladesh)। সেই চাপে পড়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত তারেক রহমান সরকারের। রাত ৮টার পর গোটা বাংলাদেশ জুড়ে দোকানপাট, বাজার কিংবা শপিংমল খোলা রাখা যাবে না। এমনই নির্দেশ সরকারের। এমনকি গৃহস্থালীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটি। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দিল্লির দিকেই এখন তাকিয়ে ঢাকা।
রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ সরকারের
আসলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হতেই ভারতসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমারে জ্বালানির সংকট মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের দাম তো আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না পদ্মাপাড়ের দেশ। সেই কারণেই গতকাল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, শপিং মল, বাজার কিংবা দোকানপাট শুধুমাত্র সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তই খোলা থাকবে। অর্থাৎ দিনের মধ্যে মাত্র ৯ ঘণ্টা বাজার খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি জানলে অবাক হবেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বাড়িতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের কোনও বিলবোর্ড জ্বালানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। এর পাশাপাশি রাত আটটার মধ্যেই মেলা কিংবা যে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুটিয়ে ফেলতে হবে। দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহারে লাগাম টানার জন্যই এই সিদ্ধান্ত তারেক রহমান সরকারের।
আরও পড়ুন: সুখবর কর্মীদের জন্য, টাকা তোলার নিয়ম শিথিল করল EPFO
সাহায্য করবে ভারত?
এমনকি সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জ্বালানি মন্ত্রী বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আবেদন জানানো হয়েছে দেশটির সরকারের তরফ থেকে। যদিও এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, “ভারত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রধান রপ্তানিকারক। তবে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি বিবেচনা রয়েছে।”