নিউটাউনে সরবে নবান্ন, এক ছাদের তলায় সব দফতর আনার প্ল্যান রাজ্য সরকারের

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জল্পনার অবসান, এবার রাইটার্স বিল্ডিং (Writers’ Building) নয়, নবান্নের (Nabanna) সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তর করা হবে নিউটাউন (New Town)! রাজ্যে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) ক্ষমতা দখল করতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। আর এবার রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তরও নিউটাউনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। মূলত ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের পর রাজ্যে বিধায়কের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই সেকথা মাথায় রেখে নিউটাউনে নয়া বিধানসভা ভবন তৈরির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

মুখ্যমন্ত্রীর নজরে নিউ টাউন

সূত্রের খবর, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর এবং প্রশাসনিক কাজ সবকিছু রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে সরিয়ে নবান্নে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে সেখানেই নানা প্রশাসনিক কাজ হয়ে আসছে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতে যাওয়ার পর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল যে হয়তো এবার বিজেপি সরকার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ এবং দপ্তর স্থানান্তর করার নির্দেশ দেবে। কারণ নবান্ন থেকে নাকি সরকার চালাতে রাজি নন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু শোনা যাচ্ছে এবার রাইটার্সে নয়, নিউটাউনে সরছে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সদর দপ্তর।

সমস্ত দপ্তরের কাজ এবার হবে এক জায়গায়

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন প্রশাসনিক সদর দপ্তর আবার রাইটার্সে ফিরতে পারে। আর সেই জল্পনা সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দুটি ঘরও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘর এখন বন্ধই পড়ে রয়েছে। এমনকি রাইটার্সের অন্যান্য অংশে মেরামতির কাজের জন্য সামগ্রী পড়ে আছে। জানা গিয়েছে, এবার রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সমস্ত সদর দপ্তর একজায়গায় নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি সরকার। অর্থাৎ কাজে গতি আনতেই ৫৪ টি দপ্তরগুলিকে নিয়ে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সদর কার্যালয় গড়ে তোলা হবে নিউটাউনে।

তৃণমূলের আমলে ছড়িয়েছিল দপ্তরগুলি

তৃণমূলের আমলে ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজির কার্যালয় থেকে শুরু করে অর্থ, কৃষি, বিপর্যয় মোকাবিলা, পূর্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি, প্রশাসনিক ও কর্মিবর্গ, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ইত্যাদি দপ্তর নবান্নে সরে আসে। তবে এই দপ্তরগুলির বেশ কিছু শাখা এবং একাধিক দপ্তরের অফিসের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় নব মহাকরণ এবং খাদ্যভবন থেকে কিছু দপ্তর পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, মৎস্য, সমাজকল্যাণ, স্কুল ও উচ্চশিক্ষার মতো বড়ো দপ্তরগুলির রাজ্য কার্যালয় রয়েছে সল্টলেকে। কিন্তু এবার সব দপ্তর গুলিকে এক ছাদের তলায় আনতে চলেছে বিজেপি সরকার।

আরও পড়ুন: বকেয়া DA-র টাকা ঢুকছে KMC এলাকার পেনশন প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে

কোন জমিকে চিহ্নিত করল সরকার?

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তরফে জানা গিয়েছে, নিউটাউনের নজরুলতীর্থ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ১৭.২৮ একর জমিকে প্রথমে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটা সেই জমি যেখানে পূর্বতন সরকার দুর্গাঙ্গন গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিল। যদিও এই জমি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। সদর কার্যালয় নির্মাণের জন্য আরো দু’-একটি জমি দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে নয়া সচিবালয় নির্মাণের কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, আপাতত রাইটার্সে ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বিজেপি সরকারের।

Leave a Comment