পৃথিবীতেই সূর্য তৈরির পথে ভারত! প্রথমবার প্লাজমা বানিয়ে ইতিহাস গড়ল PRAGYA

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মহাকাশের যে সূর্য (Sun) আলো দেয়, সেই সূর্যের মতোই বিপুল শক্তি পৃথিবীর বুকে তৈরি করার চেষ্টা চলছে বছরের পর বছর ধরে। আর সেই গবেষণায় এবার বড় সাফল্য অর্জন করল ভারত (India)। দেশের বেসরকারি ক্ষেত্রের হাত ধরে ভারতের মাটিতে তৈরি হয়েছে একটি কমপ্যাক্ট টোকামাক। যার নাম দেওয়া হয়েছে PRAGYA। রিপোর্ট অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু ভিত্তিক সংস্থা প্রাণোস ফিউশন PRAGYA নামের যে বিশেষ যন্ত্রটি তৈরি করেছে সেটাই প্রথমবারের মতো প্লাজমা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আসলে, নবনির্মিত এই যন্ত্র বা PRAGYA-ই সূর্যের মতো নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

পৃথিবীর বুকে সূর্য তৈরির পথে ভারত?

প্রথমেই বলে রাখি, বেঙ্গালুরুর সংস্থাটি PRAGYA নামক যে টোকামাক তৈরি করেছে সেটি মূলত এমন এক ধরনের বিশেষ যন্ত্র যেখানে অত্যন্ত গরম এবং কঠিন প্লাজমাকে শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের সাহায্য নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এক্ষেত্রে ফিউশন ঘটানোর জন্য গ্যাসকে প্রচন্ড উত্তপ্ত করা হলে সেটি পরিণত হয় প্লাজমায়। সাধারণত সূর্যের বুকে অর্থাৎ অভ্যন্তরে উচ্চ তাপমাত্রা এবং চাপে হালকা ওজনের পরমাণুগুলির মধ্যে ফিউশন প্রক্রিয়া ঘটে। যার ফলে তৈরি হয় বিপুল শক্তি। বিগত বছরগুলিতে পৃথিবীর বুকে এই ধরনের প্রক্রিয়া ঘটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে এসেছেন বিজ্ঞানীরা।

বলাই বাহুল্য, বেঙ্গালুরু ভিত্তিক সংস্থা প্রাণোস ফিউশন গত 8 মাস ধরে দীর্ঘ পরিশ্রমের পর 40 সেন্টিমিটার ব্যাসার্ধের কমপ্যাক্ট টোকামাকটি তৈরি করতে পেরেছে। ওই সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলছেন, PRAGYA নামক নতুন যন্ত্রটি তৈরি করার পর এবার ওই যন্ত্রকে ব্যবহার করেই বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। বলা হচ্ছে, এই যন্ত্রকে কাজে লাগিয়েই প্লাজমার আচরণ কী, সেগুলিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফিউশন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি কীভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন: তুরুষ্ক, পাকিস্তানের মক্কা চুক্তিকে সমর্থন করছে রাশিয়া! ভারতের বিরুদ্ধে পুতিনও?

তবে বলে রাখা প্রয়োজন, PRAGYA নামক যন্ত্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না বরং এটিকে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে আগামী 20 বছর ধরে। সংস্থাটির লক্ষ্য, এই যন্ত্র ব্যবহার করে প্রত্যেক বছর অন্তত 3,000 প্লাজমা শট নেওয়া অর্থাৎ দিনে প্রায় 10 থেকে 12টি প্লাজমা তৈরি করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো। আর এই পরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্যই পরবর্তীতে ফিউশন রিঅ্যাক্টর তৈরির ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

 

সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য 2030 সালের মধ্যে ফিউশন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নেট এনার্জি জেনারেশন বা ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনের দিকে এগোনো। সবমিলিয়ে বলা যায়, নতুন যন্ত্রটি ভারতের কৃত্রিম সূর্য না হলেও ভবিষ্যতে সূর্যের মতোই বিপুল শক্তির উৎস হিসেবে নিউক্লিয়ার ফিউশনকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ভারতের বেসরকারি সংস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ।

Leave a Comment